৮ ফাল্গুন ১৪২৪, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ৪ জমাদিউস-সানি ১৪৩৯
শিরোনাম :

প্যারাগন গ্রুপ ফ্যামিলি ডে: আনন্দ উৎসবে মাতলো সব কর্মী

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘ফ্যামিলি ডে’ কথাটি যখন কারো কানে আসবে তখন পরিবার-পরিবার এক ধরনের অনুভূতি কাজ করবে যে কারোর কাছেই। সাধারণত পরিবার দিবস বলতে আমরা নিজেদের পরিবারের ভাই-বোন-আত্মীয় স্বজনকে এবং বৃহৎ অর্থে রক্তের সম্পর্ককেই বুঝি। কিন্তু কর্মক্ষেত্রও যে একটি পরিবার হতে পারে, সবাই মিলে এক সাথে আনন্দ উৎসব করা যেতে পারে সেটির প্রমাণ মেলে প্যারাগন গ্রুপ আয়োজিত ‘ফ্যামিলি ডে’ প্রোগ্রামে।

প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও শুক্রবার (১৯ জানুয়ারি) আয়োজন করা হয় “ফ্যামিলি ডে অ্যান্ড অ্যানিউআল স্পোর্টস-২০১৮”। বনভোজন কিংবা পিকনিক নাম না দিয়ে কর্তৃপক্ষের ফ্যামিলি ডে নামকরণটির উদ্দেশ্য হলো প্যারাগন গ্রুপের প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারির পরিবার যাতে সম্মিলিতক একটি পরিবার হয়ে আনন্দ উদ্যাপন করতে পারেন। এজন্যই শুধু গ্রুপের কর্মীরাই নয়, বরং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিয়েও বছরের একটি দিন যেন মিলেমিশে আনন্দ উপভোগ করা যায় সেটিই ছিল মূল লক্ষ্য।

প্যারাগন গ্রুপ বিষয়টিকে বনভোজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এটাকে আরো বিস্তৃত করেছে। বনে যেয়ে ভোজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে এটিকে করেছে আরো বেশি উপভোগ্য। দিনটিতে মালিক-কর্মকর্তা সম্পর্ক আনন্দ উপভোগে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি বরং ফুর্তির রাজ্যে প্রতিটি কর্মীই ছিলেন রাজা। বন আর ভোজনের মধ্যে আয়োজনটি সীমাবদ্ধ না রেখে সেটিকে পরিণত করেছিল একটি পরিবারের মতো। তাইতো আয়োজনটির নাম বনভোজন না রেখে রাখা হয়েছে প্যারাগন গ্রুপ “ফ্যামিলি ডে অ্যান্ড অ্যানিউআল স্পোর্টস”। প্যারাগন গ্রুপ শুধু একটি কোম্পানিই নয় বরং এটি একটি পরিবার। এখানেই প্যারাগন গ্রুপের স্বার্থকতা।

হাড় কাঁপানো শীতের ভোরে শীতল হয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও প্যারাগন গ্রুপের কর্মীদের মাঝে তেমনটি লক্ষ করা যায়নি আনন্দের উষ্ণতায়। শীতল হাওয়াকে উপেক্ষা করে আনন্দের উষ্ণতায় সবাই ছিলেন সেদিন উত্তপ্ত। কারণ একটাই “আজকে আর কর্ম নয়, আনন্দ উৎসব ভাগাভাগি আর মিলনের দিন, আমরা সবাই এক পরিবার!

রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে যাত্রা শুরু হয় চাঁদপুরস্থ কালীপুরে। প্রতিবারের মতো এবারও ফ্যামিলি ডে অনুষ্ঠানটি সাজানো হয় খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান -এ দুটি পর্বে। সকালেই সারা হলো নাস্তার পর্ব। তারপর শুরু হয় রমনীদের পিলোপাসিং গেইম। খেলা আর আনন্দ উপভোগের মাঝখানে কখন যে লঞ্চ চাঁদপুর পৌঁছল টের পাওয়া গেল না।

চাঁদপুরের এখলাসপুরে আয়োজন করা হয় ক্রিকেট, ফুটবল ও দড়ি খেলা, বাচ্চাদের দৌড় প্রতিযোগিতা এবং মেয়েদের হাঁড়িভাঙ্গা খেলার। খেলা পরিচালনা ও অংশগ্রহণকারীদের মাঝে ছিলেন প্যারাগন গ্রুপের সিওও সোহেল ইবনে সাত্তার, পিপল অ্যান্ড অর্গানাইজেশন বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার মেজর এম বজলুল করিম (অবঃ), বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিভাগের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার জনাব সারোয়ার হোসেন শাহীন, প্রিন্টিং অ্যান্ড স্টেট ডিপার্টমেন্টের অ্যাসিসট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার মি. সুজিত সাহা, সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের অ্যাসিসট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার শ্যামল চক্রবর্তী, সাপ্লাই ও চেইন বিভাগের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. আতিকুর রহমান প্রমুখ।

খেলার আয়োজন শেষে লঞ্চেই সারা হয় মধ্যাহ্নভোজ। এরপর আবার শুরু হয় র‌্যাফেল ড্র এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রতিবারের মতো এবারও প্যারগন গ্রুপে এমপ্লোয়ি অব দ্যা ইয়ার ঘোষণা করা হয়। এ বছর এমপ্লোয়ি অব দ্যা ইয়ার নির্বাচিত হন হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. আরিফ সালাহ উদ্দিন। প্যারাগান গ্রুপের কর্ণধার মসিউর রহমান, পরিচালক ইয়াসমিন রহমান, পরিচালক মেহরান রহমান তার হাতে ক্রেস্ট ও পুরস্কার তুলে দেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে জনপ্রিয় পেশাদার শিল্পীদের মনোমুগ্ধকর সঙ্গীত পরিবেশনা।

অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যাপারে প্যারাগন গ্রুপের কর্ণধার মসিউর রহমান কর্মীদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি আরো বলেন, এ রকম আয়োজন আমরা প্রতিবছর করতে চাই। প্যারাগন গ্রুপের আজকের এ অবস্থান প্রতিটি কর্মীর অক্লান্ত পরিশ্রম, মেধা এবং আন্তরিকতার জন্যই সম্ভব হয়েছে। আমরা বিষয়টি তাই ধরে রাখতে চাই।

This post has already been read 701 times!

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*