Sunday 5th of February 2023
Home / পোলট্রি / ঢাকায় ‘DSM Mycotoxin Academy 2022’: বিশ্বের সাড়ে ৪শ’ কোটি মানুষ মাইকোটক্সিনে আক্রান্ত

ঢাকায় ‘DSM Mycotoxin Academy 2022’: বিশ্বের সাড়ে ৪শ’ কোটি মানুষ মাইকোটক্সিনে আক্রান্ত

Published at ডিসেম্বর ১০, ২০২২

ঢাকায় ‘DSM Mycotoxin Academy 2022’ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন (বাঁ থেকে) রেনাটা লিমিটেড এর পরিচালক মো. সিরাজুল হক, Dr. Tan Seong Lim, Performance Solution Manager, DSM; Dr. Lorran Baeumle Gabardo, Global Product Manager, DSM, বিপিআইসিসি, ওয়াপসা-বিবি সভাপতি ও প্যারাগন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মসিউর রহমান এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এমদাদুল হক চৌধুরী।

নিজস্ব প্রতিবেদক: মাইকোটক্সিন হলো- ছত্রাকের বিষাক্ত সেকেন্ডারি মেটাবোলাইট যা খাবার এবং ফিডের প্রাকৃতিক দূষক। আমাদের বিভিন্ন গবেষণায় খাদ্য উপকরণে মাইকোটক্সিনের আধিক্য সনাক্ত হয়েছে যা মানব ও প্রাণীর স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু আমাদের দেশে মাইকোটক্সিন নিয়ে সতর্কতা খুবই কম। কিন্তু বিশ্বব্যাপী মাইকোটক্সিন এর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। কারণ, মাইকোটক্সিন পশু স্বাস্থ্য ও  উৎপাদনে অর্থনৈতিক ক্ষতির জন্য অত্যন্ত সুপরিচিত।

বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) ঢাকায় ‘DSM Mycotoxin Academy 2022’ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা। দেশের ওষুধ প্রস্তুত ও বাজারজাতকারী স্বনামধন্য কোম্পানি রেনাটা লিমিটেড ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কোম্পানি ডিএসএম উক্ত সেমিনারের আয়োজন করে। এতে দেশ বিদেশের প্রায় শতাধিক পোলট্রি উদ্যোক্তা, পুষ্টিবিদ, বিজ্ঞানী, গবেষক অংশগ্রহণ করেন। আয়োজকদের দাবী এ ধরনের সেমিনার দেশের প্রাণিজ আমিষ শিল্পের সাথে জড়িতদের জন্য আইডিয়া ও জ্ঞান বিনিময়ের এক অপূর্ব সুযোগ।

সেমিনারে ”Mycotoxin Prevalence in Bangladesh & its impact on health and productivity impact of and poulty species with special reference to immunity to immunotoxicity ” শীর্ষক আলোচনা করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এমদাদুল হক চৌধুরী। এছাড়াও সেমিনারে ”The basic of Mycotoxicosis from the formation toxins, analysis & economic impacts” শীর্ষক আলোচনা করেন Dr. Tan Seong Lim, Performance Solution Manager, DSM এবং ”Mycotoxin risk management including prevalence and ways to manage the risk” শীর্ষক আলোচনা করেন Dr. Lorran Baeumle Gabardo, Global Product Manager, DSM.

অধ্যাপক ড. এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, পৃথিবীতে প্রায় ৭শ’র মতো মাইকোটক্সিন রয়েছে; এর মধ্যে সবই কিন্তু ক্ষতিকর নয়, কিছু মাইকোটক্সিন উপকারও করে। দেশের পোলট্রি শিল্পে যেসব মাইকোটক্সিন বেশি ক্ষতি করে তাদের মধ্যে Aflatoxin (AF), Fumonisin B1 (FUM), Ochratoxin A (OTA), Zearalenone (ZEN), Deoxynivalenol (DON) এবং T-2 অন্যতম; এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে (Aflatoxin) আফলাটক্সিন।

তিনি বলেন, পৃথিবীর প্রায় সাড়ে ৪শ’ কোটি মানুষ মাইকোটক্সিনে আক্রান্ত; কিন্তু বাংলাদেশে এটির কথা চিন্তাও করে না, নেই তেমন গবেষণা। পোলট্রিতে মাইকোটক্সিন নিয়ে চিন্তা করা হলেও, বৃহৎ প্রাণীর ক্ষেত্রে বিষয়টি নিয়ে কোন আগ্রহ নেই। অথচ মাইকোটক্সিন হচ্ছে এমন একটি জীবাণু যা অনেকটা ডায়াবেটিসের মতো একাই বহু রোগের জন্ম নেয়।

অধ্যাপক ড. এমদাদুল হক চৌধুরী আরো বলেন, আন্তর্জাতিক রীতি অনুযায়ী ভুট্টায় যেখানে আফলাটক্সিন ফলো করা উচিত ২০পিপিবি, সেখানে আমাদের দেশে করা হয় ৫০পিপিবি। রিপোর্ট বলছে, ৮৬ শতাংশ পোল্ট্রি ফিডে একাধিক মাইকোটক্সিন থাকে। তাই মানব ও প্রাণিস্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে বাংলাদেশের ফিড রুল পূনর্মূল্যায়ন করা দরকার।

বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল এবং ওয়াপসা-বিবি সভাপতি ও প্যারাগন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মসিউর রহমান বলেন, ফার্ম ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রে আমরা বায়োসিকিউরিটির কথা সবসময় বলে আসছি। কিন্তু বায়োসিকিউরিটি ততক্ষণ পর্যন্ত পুরোপুরি নিশ্চিত হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত খামার বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না হবে। তাই, খামার ও পোলট্রি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে আমাদের সিরিয়াস নজর দিতে হবে।

মসিউর রহমান বলেন, পোলট্রি বর্জ্য কেন আমরা যেখানে সেখানে ফেলে রাখবো কিংবা মাটিতে পুঁতে রাখবো। এর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আমরা নিজেরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবো না, তেমনি আশেপাশের পরিবেশ তথা অন্যকেও ক্ষতি করবো না। আমরা সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এসব বর্জ্যকে একদিকে যেমন সম্পদে পরিণত করতে পারি, তেমনি খামারের আভ্যন্তরীন পরিবেশকে রোগমুক্ত রাখতে পারি। রোগ হলে চিকিৎসা ও ওষুধ ক্রয়ের চেয়ে রোগ যাতে না হয় সেদিকে মনোযোগী হতে হবে। এর ফলে শুধুমাত্র স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত উন্নতিই হবে না; আর্থিকভাবেও লাভবান হওয়া যাবে।

মসিউর রহমান আরো বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আমাদের কোম্পানির প্রায় সবগুলো ফার্ম নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়; তাছাড়া বাই প্রোডাক্ট হিসেবে উৎপাদিত জৈব সার আমরা বাজারে বিক্রি করতে পারছি। ফলে সার্বিক উৎপাদন খরচ কমছে।

তিনি বলেন, মুরগির বাচ্চা, মাংস, ডিম, ফিড যাই বলি না কেন আমরা এগুলোর দামের নিয়ন্ত্রক নই। চাহিদা ও যোগানের ভিত্তিতে বাজার তার প্রয়োজনে এসবের দাম নির্ধারণ করে। সুতরাং আমাদের উৎপাদিত পণ্যের দাম কীভাবে বাড়বে সেটি চিন্তা করার চেয়ে বরং উৎপাদন খরচ কীভাবে কমানো যাবে সেই বিষয়ে চিন্তা করা উচিত। সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আমরা সেই খরচ কমিয়ে আনতে পারি এবং এ ব্যাপারে যদি কেউ আমার সহযোগিতা চায়, আমি তা করতে প্রস্তুত।

রেনাটা লিমিটেড এর পরিচালক মো. সিরাজুল হক বলেন, সম্প্রতি কোভিড পরিস্থিতির কারণে প্রায় ৩ বছর পর আবার আমরা মিলিত হতে পেরেছি। বরাবরের মতো কেবল ঢাকাতেই সেমিনারটি সীমাবদ্ধ না রেখে, এ বছর এটিকে বিকেন্দ্রীকরণ করে একটু ভিন্নভাবে আয়োজন করেছি। ঢাকা ছাড়াও সেমিনারটি চট্টগ্রাম ও বগুড়াতে অনুষ্ঠিত হবে। আমরা সাধারণত এ ধরনের সেমিনারে কোন প্রোডাক্ট নিয়ে আলোচনা করে বরং নলেজ বেইজড করার চেস্টা করি যাতে আমরা এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প উপকৃত হতে পারে।

মো. সিরাজুল হক বলেন, বাংলাদেশের অন্যান্য কোম্পানির সাথে রেনাটা’র বেসিক কিছু পার্থক্য আছে। আমরা একটা প্রোডাক্টের কোন কপি রাখি না, আমরা একটি ইথিকস মেনে চলার চেষ্টা করি। রেনাটা শুধুমাত্র পণ্য বিক্রিকেই প্রাধান্য না দিয়ে, সার্ভিস দিয়ে আপনাদের সাথে থাকতে চায়।

“আমরা, রেনাটা বিশ্বাস করি যে এই বৈজ্ঞানিক সম্মেলন এবং ইভেন্টগুলিতে অংশগ্রহণকারীদের সর্বোত্তম দীর্ঘমেয়াদী ফলাফল অর্জনে সহায়তা এবং শিল্পের সর্বোত্তম অনুশীলনের ভিত্তিতে আরও নেটওয়ার্কিংয়ের জন্য একটি শক্তিশালী অংশীদারিত্ব এবং সুযোগ তৈরি করবে”-যোগ করেন মো. সিরাজুল হক।

This post has already been read 642 times!