\ একুয়া নেচার নির্ভর মাছ চাষে পুকুরে পোনা মজুদ | Agrinews24
১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২৪ মে ২০১৯, ১৯ রমযান ১৪৪০
শিরোনাম :

একুয়া নেচার নির্ভর মাছ চাষে পুকুরে পোনা মজুদ

Published at মার্চ ১২, ২০১৯

সালাহ উদ্দিন সরকার (তপন): কার্পজাতীয় মাছ চাষ করতে চাইলে শুধু মাত্র একুয়া নেচার প্রয়োগ করেই মাছ চাষ সম্ভব। ক্ষেত্র বিশেষে বাণিজ্যিক মাছ চাষেও এফসিআর উন্নত করে বা খাদ্য খরচ কমায়। একুয়া নেচার নির্ভর মাছ চাষে পুকুরে পোনা মজুদ পদ্ধতি নিম্নে দেওয়া হলো:

একুয়া নেচার প্রতি শতাংশে মাছ মজুদ – ১

কাতলা ২টি+সিলভার কার্প ৩টি+রুই ৫টি+হাংগেরি কারপিও/কারপিও ২টি+মৃগেল ১টি+কালি বাউস ১টি+থাই সরপুঁটি ১৫টি+তেলাপিয়া ১০টি। মাছ মজুদের ৪ মাস পর থাই সরপুঁটি এভারেজ ৭০০ গ্রাম সাইজের হয়ে যাবে। তাই সরপুঁটিগুলি বিক্রি করে পুনরায় প্রতি শতাংশে ১৫টি করে সরপুঁটি ছাড়তে পারবেন, যা পরবর্তী ৪ মাস পর এভারেজ ৪০০-৫০০ গ্রাম সাইজের হয়ে যাবে এবং কৌশল প্রয়োগ করে শতাংশ প্রতি মাছের উৎপাদনও অনেক বাড়াতে পারবেন। শুধুমাত্র একবারের সরপুঁটি বিক্রির টাকা দিয়ে একুয়া নেচার ফর্মুলার চাষের প্রায় সব টাকা উঠে যাবে আশা করা যায়।

একুয়া নেচার প্রতি শতাংশে মাছ মজুদ –২

কাতলা ১টি+সিলভার কার্প ২টি+বিগহেড ১টি+রুই ৫টি+হাংগেরি কারপিও/কারপিও ২টি+মৃগেল ১টি+কালি বাউস ১টি+থাই সরপুঁটি ১২ টি+ইলসে বাটা ১২টি মাছ। মজুদের ৪ মাস পর থাই সরপুঁটি এভারেজ ৭০০ গ্রাম সাইজের হয়ে যাবে। তাই সরপুঁটিগুলি বিক্রি করে পুনরায় প্রতি শতাংশে ১৫টি করে সরপুঁটি ছাড়তে পারবেন, যা পরবর্তী ৪ মাস পর এভারেজ ৪০০-৫০০ গ্রাম সাইজের হয়ে যাবে এবং কৌশল প্রয়োগ করে শতাংশ প্রতি মাছের উৎপাদনও অনেক বাড়াতে পারবেন। শুধুমাত্র একবারের সরপুঁটি বিক্রির টাকা দিয়ে একুয়া নেচার ফর্মুলার চাষের প্রায় সব টাকা উঠে যাবে আশা করা যায়।

কুয়া নেচার প্রতি শতাংশে মাছ মজুদ –৩

কাতলা ২টি+সিলভার কার্প ৩টি+রুই ৫টি+হাংগেরি কারপিও/কারপিও ২টি+মৃগেল ১টি+কালি বাউস ১টি+থাই সরপুঁটি ১৫টি+তেলাপিয়া ১০টি। মাছ মজুদের ৩ মাস পর প্রতি ২ শতাংশে ১টি করে চিতল ছাড়তে পারবেন। যেগুলো পুকুরে ছোট ছোট গুড়া মাছ খাবে এবং ৩-৪ মাস পর প্রতিটি ১.৫ কেজি বা তার চেয়েও বড় হয়ে যাবে।

একুয়া নেচার প্রতি শতাংশে মাছ মজুদ –৪

কাতলা ১টি+সিলভার কার্প ২টি+বিগহেড ১টি+রুই ৫টি+হাংগেরি কারপিও/কারপিও ২টি+মৃগেল ১টি+কালি বাউস ১টি+থাই সরপুঁটি ১২টি+ইলসে বাটা ১২টি। মাছ মজুদের ৩ মাস পর প্রতি ২ শতাংশে ১টি করে চিতল ছাড়তে পারবেন। যেগুলো পুকুরে ছোট ছোট গুড়া মাছ খাবে এবং ৩-৪ মাস পর প্রতিটি ১.৫ কেজি বা তার চেয়েও বড় হয়ে যাবে।

একুয়া নেচার প্রতি শতাংশে মাছ মজুদ –৫  

কাতলা ১টি+সিলভার কার্প ১টি+হাংগেরি কারপিও/কারপিও ১টি+থাই সরপুঁটি ৫০টি+ইলসে বাটা ৪০০টি (এই পদ্ধতিতে মাছ মজুদ করলে প্রতিদিনের খাবার প্রয়োগ চার্ট বাড়াতে হবে)। মজুদ পদ্ধতিগুলো ৬-৮ মাসের সময়কালের হিসেবে করা। কাতলা, সিল্ভার কার্প, রুই, বিগহেড, কারপিও, মৃগেল, কালিবাউস মাছ গুলি ১৫০-২০০ গ্রাম সাইজের দেওয়া উচিত, অন্যগুলো আংগুলি সাইজের দিলেই চলবে।

বিঃ দ্রঃ

১. কিছু মাছের বাণিজ্যিক চাষেরও পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্য পরীক্ষা পূর্বক মাসে দুইবার প্রয়োগ করা যেতে পারে, যা আশা করা যায় ২০-৪০% পর্যন্ত FCR উন্নত করবে। প্রজাতিভেদে ব্যবহার করা নাও যেতে পারে।

২. একুয়া নেচার দেওয়ার পূর্বে পুকুরের পানির পিএইচ পরীক্ষা করে নিন। পানির পিএইচ ৭ এর উপরে থাকতে হবে, আদর্শ পিএইচ ৭.৫ – ৮.৫।

৩. পিএইচ কম থাকলে পরিমিত মাত্রায় চুন প্রয়োগ করুন। একুয়া নেচার দেওয়ার পর চুন প্রয়োগ করবেন না, এতে প্রাকৃতিক খাদ্য নষ্ট হতে পারে। তাই একুয়া নেচার দেওয়ার পূর্বে প্রয়োজন হলে চুন প্রয়োগ করুন।

This post has already been read 415 times!

Fixing WordPress Problems developed by BN WEB DESIGN