Tuesday 23rd of April 2024
Home / মৎস্য / গলদা চাষ আবারো শুরুর এটিই উপযুক্ত সময় -মৎস্য ডিজি

গলদা চাষ আবারো শুরুর এটিই উপযুক্ত সময় -মৎস্য ডিজি

Published at জুন ২৩, ২০২৩

‘গলদা কনফারেন্স-২০২৩’ এ প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খন্দকার মাহবুবুল হক।

নিজস্ব প্রতিবেদক: সর্বাত্মক প্রচেষ্টার সাথে আবারো গলদা চাষ শুরু করার এটি একটি সঠিক সময় বলে উল্লেখ করেছেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খন্দকার মাহবুবুল হক। তিনি বলেন, বাগদার মতো গলদা চিংড়িও আমাদের দেশের একটি গর্বিত সম্পদ। মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা আমাদের সাথে আসুন, চাষিদের সাথে যোগ দিন এবং তাদের সমর্থন করুন। তারা (মাছ চাষি) কিছু ব্যবসা করতে পারলে সবাই উপকৃত হবে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

দেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত ‘গলদা কনফারেন্স-২০২৩’ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার (২০ জুন) রাজধানীর রাজধানীর লেকশোর হোটেলে উক্ত কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। ‘Building the Future: Applying Biotechnology in Golda Farming’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এগ্রো সলিউশন ও ম্যাভেরিক ইনোভেশন যৌথভাবে উক্ত কনফারেন্সের আয়োজন করে। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অ্যাকোয়াটিক ফিড অ্যান্ড নিউট্রিশন এক্সপার্ট ড. অ্যালবার্ট ট্যাকন (Dr. Albert Tacon) এবং স্বাদু পানিতে ‘অল মেল’ পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষের উদ্ভাবক গিভা কুপ্পুসামী (Mr. Giva Kuppusamy), মালয়েশিয়া। দেশের মৎস্য শিল্পের সাথে জড়িত বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ, উদ্যোক্তা, পুস্টিবিদ, শিক্ষক, গবেষক এতে অংশগ্রহণ করেন।

‘গলদা কনফারেন্স-২০২৩’ এ প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খন্দকার মাহবুবুল হক। পাশে উপস্থিত অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

প্রথমবারের মতো গলদা কনফারেন্স আয়োজন ও আয়োজকদের সম্পর্কে মহাপরিচালক বলেন, এটি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে শিল্পের আড়ালের দিকের লোকেরা এখানে রয়েছেন; যারা সত্যিকারভাবে দেশের মৎস্য, প্রাণিসম্পদ তথা সামগ্রিক কৃষির জন্য কাজ করছে। ফিড শিল্পের সাথে জড়িত ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত আছেন যারা বাংলাদেশের অ্যাকোয়াকালচার এবং কৃষিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ভালো মানের ফিড উৎপাদন ও সরবরাহ করে তারা চাষিদের সহযোগিতা করছেন। ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাকোয়াকালচারের জন্য দেশের প্রথম গবেষণাধর্মী প্লাটফর্ম।

দেশের মৎস্য শিল্পের সাথে জড়িতদের অনুরোধ জানিয়ে খন্দকার মাহবুবুল হক বলেন, গবেষণাকে অভিযোজিত করার জন্য একটি প্রস্তাব নিয়ে আপনারা আমাদের কাছে আসুন। আমরা অবশ্যই আপনাদের জন্য কিছু করার চেষ্টা করবো। কারণ, এতে করে মাছচাষি থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সকল ব্যবসায়ী লাভবান হবে। মৎস্য বিভাগ সত্যিই কাজ করার চেষ্টা করছে এবং দীর্ঘ ১০ বছর সংগ্রামের পর আমরা সফলভাবে ক্লাস্টার ফার্মিং সিস্টেম প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছি। আমরা ইতিমধ্যে বাগদা চিংড়ির জিআই স্বীকৃতি পেয়েছি, যা আমাদের দেশের জন্য গর্বের। অপরদিকে গলদা চিংড়ি আমাদের দেশের আরেক গর্বিত মাছ। গলদা চিংড়িকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে এবং জিআই সনদ অর্জন করতে এটিকে নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে।

“আমরা যদি ২০১০ সনের দিকে ফিরে যাই, তখন দেশের প্রায় ২শত চিংড়ি হ্যাচারিতে ভালো মানের গলদা বীজ বা পিএল উৎপাদন করা হতো। কিন্তু বন্ধ হতে হতে একটি সময় প্রায় সবগুলো বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে বেসরকারি হাতেগোনা কয়েকটি ছাড়া কেবল সরকারি হ্যাচারিতে গলদা পিএল উৎপাদন করা হচ্ছে। কিন্তু কিছু চাষি এখনো সত্যিকারভাবেই চেষ্টা করছেন গলদা নিয়ে কিছু করতে এবং আমরা তাদেরকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছি” – যোগ করেন মৎস্য ডিজি।

খন্দকার মাহবুবুল হক আরো বলেন, আমাদের দেশে দিনকে দিন চাষযোগ্য জমির পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে, কমছে জলাশয়। অপরদিকে বাড়ছে চাহিদা। আগামী ২০৪১ সনের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ বিণির্মান সরকারের লক্ষ্য। তাই উক্ত সময়ের মধ্যে মাছের উৎপাদন অন্তত দ্বিগুণ বাড়াতে হবে; সেই সাথে রক্ষা করতে হবে গুণগত মান। অন্য দেশের সঙ্গে আমাদের প্রতিযোগিতা করতে হবে। আর এ থেকে কৃষকদের লাভবান হওয়া দরকার। কৃষকরা লাভবান না হতে পারলে পুরো শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন, অ্যাকোয়া-জেন এর প্রধান নির্বাহী সোহেল ইবনে সাত্তার, জেফো নিউট্রিশন ইনকর্পোরেট (Jefo Nutrition Inc.,) এর সেলস ডিরেক্টর ও ম্যাভেরিক ইনোভেশন- বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা ড. এমএ কবির চৌধুরী, এগ্রো সলিউশন এর প্রধান নির্বাহী অং তুং অয় অন্তু, কাকলী মোহন্ত কেয়া প্রমুখ। সমগ্র অনুষ্ঠানটিতে সঞ্চালকের ভূমিকা পালন করেন ম্যাভেরিক ইনোভেশন এর ড. ফররুক রুমি।

প্রথমবার অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া কনফারেন্সটিতে প্লাটিনাম স্পন্সর ছিল অ্যাকোয়া-জেন, গোল্ড স্পন্সর ছিল আদিয়ান এগ্রো লিমিটেড, জেফো নিউট্রিশন ইনকর্পোরেট, পেন্টা গ্রীন, ডক্টোরস এগ্রোভেট লিমিটেড এবং সিলভার স্পন্সর ছিল ক্যাটাপল ও হুভারস এগ্রো্ভেট লিমিটেড।

This post has already been read 1386 times!