
নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রাণিস্বাস্থ্যই টেকসই কৃষি, নিরাপদ খাদ্য ও সমৃদ্ধ অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি। সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখে বাংলাদেশের প্রাণিস্বাস্থ্য খাত আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে প্রস্তুত। আগামী ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি)-তে শুরু হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ৬ষ্ঠ AHCAB ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো ২০২৬। প্রাণিস্বাস্থ্য, পোলট্রি, মৎস্য ও লাইভস্টক শিল্পের এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে অ্যানিমেল হেলথ কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (AHCAB)।
দেশের প্রাণিস্বাস্থ্য খাত আজ শুধু উৎপাদনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়, এটি কৃষকের জীবন, ভোক্তার নিরাপদ প্রোটিন এবং জাতীয় অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। এই বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটিয়ে এবারের এক্সপোর মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “Healthy Animals, Thriving Nation”। এই প্রতিপাদ্য প্রাণী ও মানুষের সুস্থ সহাবস্থান এবং উন্নয়নমুখী রাষ্ট্র গঠনের বার্তাই বহন করে।
এই এক্সপোতে দেশ ও বিদেশের শীর্ষস্থানীয় প্রাণিস্বাস্থ্য ও ভেটেরিনারি প্রতিষ্ঠান, গবেষক, বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা ও নীতিনির্ধারকরা একত্রিত হবেন। ভ্যাকসিন, ভেটেরিনারি ওষুধ, ফিড ও নিউট্রিশন, ডায়াগনস্টিকস, বায়োসিকিউরিটি, লাইভস্টক ও অ্যাকুয়াকালচার খাতের আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী পণ্যের প্রদর্শনীর পাশাপাশি মতবিনিময় ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করবে এই আন্তর্জাতিক আয়োজন।
আয়োজকদের মতে, AHCAB ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো কেবল একটি প্রদর্শনী নয়; এটি শিল্পের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম। এই এক্সপোর মাধ্যমে দেশীয় প্রাণিস্বাস্থ্য শিল্প আরও সুসংগঠিত ও প্রতিযোগিতামুখী হয়ে উঠবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
ইতোমধ্যে এক্সপোকে ঘিরে শিল্প সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। আগ্রহী দেশি ও বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও দর্শনার্থীদের জন্য অনলাইন রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চালু রয়েছে। অংশগ্রহণে ইচ্ছুকরা https://expo.ahcab.net/registration লিংকে প্রবেশ করে সহজেই এক্সিবিটর অথবা ভিজিটর হিসেবে নিবন্ধন করতে পারছেন।
একটি সুস্থ প্রাণিসম্পদই যে নিরাপদ খাদ্য, শক্তিশালী অর্থনীতি ও আত্মনির্ভর জাতির ভিত্তি—এই বিশ্বাসকে সামনে রেখে ৬ষ্ঠ AHCAB ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো ২০২৬ হয়ে উঠতে যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রাণিস্বাস্থ্য খাতের অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই আন্তর্জাতিক আয়োজন শুধু বর্তমানের চাহিদা পূরণ নয়, বরং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের পথচলায় এক সুদৃঢ় প্রত্যয়।



