
নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ২০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশন (বিপিআইএ)-এর দ্বিবার্ষিক নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘পোল্ট্রি পেশাজীবী পরিষদ’ তাদের ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারে পোল্ট্রি শিল্পের সার্বিক উন্নয়ন, বাজার ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা এবং খামারিদের আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষার একটি বিস্তৃত রূপরেখা তুলে ধরেছে। ইশতেহারে শিল্পের বিদ্যমান সংকট মোকাবেলায় স্বল্পমেয়াদি সমাধানের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সংস্কারের অঙ্গীকার করা হয়েছে ।
ইশতেহারে ডিম ও মুরগির বাজারে অস্বাভাবিক দাম ওঠানামা রোধে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সংকটকালে জেনারেল খামারিদের রক্ষায় প্রণোদনা পুনর্বহালের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। পোল্ট্রি শিল্পের পরিকল্পিত বিকাশ নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী জাতীয় পোল্ট্রি ডেভেলপমেন্ট বোর্ড গঠনে সরকারের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিদের জন্য কম সুদে সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা এবং উৎপাদন ব্যয় কমাতে পোল্ট্রি খাতে বিদ্যুৎ বিলের ওপর ২০ শতাংশ রিবেট পুনরায় কার্যকরের বিষয়টি ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সংগঠনের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠনের পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় ‘খামারি সহায়তা ডেস্ক’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে, যাতে মাঠপর্যায়ের সমস্যা দ্রুত সমাধান করা যায়।
একদিন বয়সী বাচ্চার মূল্য নির্ধারণে খামারিদের স্বার্থ রক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিপিআইএ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও ব্রিডারদের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ডিম ও মুরগির বিপণন ব্যবস্থাকে সহজ করতে সরবরাহ শৃঙ্খলা শক্তিশালী করা, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানো এবং খামারি পর্যায়ে লাভজনক মূল্য নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
ইশতেহারে পোল্ট্রি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। লিটার থেকে বায়োগ্যাস ও জৈব সার উৎপাদনের মাধ্যমে অতিরিক্ত আয় সৃষ্টিতে সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার কথা বলা হয়েছে। লেয়ার খামারিদের সুরক্ষায় পোল্ট্রি ঘন এলাকায় ডিম সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডিম ও মুরগির ন্যায্য মূল্য পুনর্মূল্যায়ন, বাজারদরের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের সরাসরি প্রণোদনার বিষয়টিও ইশতেহারে গুরুত্ব পেয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে ‘পোল্ট্রি স্মার্ট অ্যাপ’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে বাজারদর, আবহাওয়া সতর্কতা ও রোগবালাই সংক্রান্ত তথ্য খামারিরা তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারবেন।
দেশীয় উৎপাদনকে সুরক্ষিত রাখতে অপ্রয়োজনে বিদেশ থেকে ডিম আমদানি নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি পোল্ট্রি ঘন অঞ্চলে রোগ নির্ণয়ের জন্য আঞ্চলিক ডায়াগনস্টিক ল্যাব স্থাপনে বিনিয়োগ উৎসাহিত করার কথা বলা হয়েছে। জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নীতিতে পোল্ট্রি খাতের অবদানকে সুস্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও ইশতেহারে তুলে ধরা হয়েছে।
সরকারি ফিল্ড টেস্টিং ল্যাব আধুনিকায়ন, নতুন ল্যাব স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং পোল্ট্রি ফিডের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট কমিয়ে উৎপাদন ব্যয় হ্রাসের অঙ্গীকার করা হয়েছে। একইভাবে খামারিদের ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও খুচরা যন্ত্রাংশে কর ও ভ্যাট কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
সংগঠনের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে বিপিআইএর সদস্যপদ, নিবন্ধন ও অভিযোগ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার কথা বলা হয়েছে। বন্দরে আটকে থাকা জরুরি পোল্ট্রি পণ্য দ্রুত খালাসে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকারও ইশতেহারে স্থান পেয়েছে।
জাতীয় বাজেটে আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি স্থাপনে খামারিদের জন্য প্রণোদনা, সরকারি ভ্যাকসিন উৎপাদন বৃদ্ধি ও মান উন্নয়ন এবং নিরাপদ ও অ্যান্টিবায়োটিকমুক্ত ডিম-মুরগি উৎপাদনে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি জোরদারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। গবেষণা ও উদ্ভাবনে কর সুবিধা নিশ্চিত করে দেশীয় প্রযুক্তি উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পোল্ট্রি পণ্যের ব্র্যান্ডিং ও রপ্তানি সম্প্রসারণ, নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও ইনকিউবেশন সহায়তা এবং ‘পোল্ট্রি ভিশন ২০৩০’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীল, নিরাপদ ও টেকসই পোল্ট্রি শিল্প গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয়ের কথাও ইশতেহারে তুলে ধরা হয়েছে ।



