
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর খামারবাড়িতে অবস্থিত প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে নবনিযুক্ত মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ মোঃ শাহজামান খানকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে বাংলাদেশ এগ্রো ফিড ইনগ্রিডিয়েন্টস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাফিটা)। একইসঙ্গে দেশের প্রাণিসম্পদ ও ফিড শিল্পের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর কাছে একটি স্মারকলিপিও প্রদান করেছে সংগঠনটি।
আজ বুধবার (২৪ জুন) সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে বাফিটার সভাপতি সুধীর চৌধুরী এবং মহাসচিব মোঃ গিয়াস উদ্দিন খানের নেতৃত্বে সংগঠনের একটি প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করে।
সাক্ষাৎকালে বাফিটার নেতৃবৃন্দ মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় মোঃ শাহজামান খানকে অভিনন্দন জানান এবং তাঁর নেতৃত্বে দেশের প্রাণিসম্পদ খাত নতুন গতি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, পোল্ট্রি, ডেইরি ও মৎস্য খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় এবং নীতিগত সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের সার্বিক উন্নয়ন এবং পোল্ট্রি, ডেইরি ও মৎস্য শিল্পের অন্যতম প্রধান উপাদান ‘অ্যানিমেল ফিড ইনগ্রিডিয়েন্টস’ বা প্রাণিখাদ্যের কাঁচামাল আমদানির বর্তমান পরিস্থিতি, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় বাফিটার পক্ষ থেকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে একটি স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক ক্যাটাগরি-২ লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে বাফিটাসহ সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়। সংগঠনটির নেতৃবৃন্দের মতে, এ ধরনের ব্যবস্থা আমদানি বাণিজ্যে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করবে এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের কার্যক্রমকে অধিকতর জবাবদিহিতার আওতায় আনবে।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, দেশের পোল্ট্রি, ডেইরি ও মৎস্য খাতের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাণিখাদ্যের কাঁচামাল ও পশুপুষ্টি উপকরণ আমদানিতে বাফিটার সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। দেশের দুধ, ডিম, মাছ ও মাংস উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পেছনে এসব কাঁচামালের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ অপরিহার্য বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া, আগাম কর (এটি) সংক্রান্ত এসআরও নং-১৮১-আইন/২০২৫/৩০৯-মূসক, তারিখ ২৭ মে ২০২৫-এর ক্রমিক নং-২১ সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়টিও স্মারকলিপিতে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। বাফিটার নেতৃবৃন্দের মতে, বিদ্যমান বিধানের কারণে পশুপুষ্টি উপকরণ ও সংশ্লিষ্ট কাঁচামাল আমদানিতে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত প্রাণিজ পণ্যের উৎপাদন ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বাফিটার প্রতিনিধিরা আশা প্রকাশ করেন, প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে তাদের উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
সৌজন্য সাক্ষাৎ ও আলোচনা সভায় বাফিটার কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ, সাধারণ সদস্য এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



