
নিজস্ব প্রতিবেদক: কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) কেন্দ্রিক কথিত চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় কৃষিবিদ ডা. শাহাদাত হোসেন পারভেজের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) আমতলায় প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে অংশ নেওয়া কৃষিবিদ, শিক্ষক, পেশাজীবী ও সংগঠনের নেতারা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
প্রতিবাদ সভাটি কৃষিবিদ ড. মো. সাদেকুজ্জামানের সঞ্চালনায় এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তারা বলেন, গত ৪ জুন রাজধানীর খামারবাড়িস্থ কেআইবির প্রধান ফটকের সামনে কেআইবিকে কেন্দ্র করে উত্থাপিত চাঁদাবাজির অভিযোগের প্রতিবাদ করতে গিয়ে ডা. শাহাদাত হোসেন পারভেজ হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব)-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ শাহাদাৎ হোসেন বিপ্লবকে ডা. পারভেজের সঙ্গে উত্তপ্ত ও আক্রমণাত্মক বাকবিতণ্ডায় জড়াতে দেখা যায় বলে দাবি করেন তারা। বক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার কিছুক্ষণ পর বিপ্লবের অনুসারী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন বহিরাগত ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে ডা. পারভেজের ওপর হামলা চালায়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, একজন পেশাজীবী নেতার প্রতি প্রকাশ্য আক্রমণাত্মক আচরণ এবং পরবর্তী সময়ে সংঘটিত হামলার অভিযোগ কৃষিবিদ সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, ডা. শাহাদাত হোসেন পারভেজ দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী আদর্শভিত্তিক পেশাজীবী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি এ্যাব ঢাকা জেলা চ্যাপ্টারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি এবং বর্তমানে ভেটেরিনারি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ভ্যাব)-এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনে তার সক্রিয় ভূমিকার কথা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, তার ওপর হামলার ঘটনায় দেশের কৃষিবিদ ও পেশাজীবী মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কৃষিবিদ মো. ছরোয়ার হোসেন (সাবেক সদস্য, এ্যাব কেন্দ্রীয় কমিটি), কৃষিবিদ ওয়াহিদা ইয়াসমিন লিপি (সাবেক সহ-মহিলা সম্পাদিকা, এ্যাব কেন্দ্রীয় কমিটি), কৃষিবিদ ড. ফারুক আহমেদ (সাবেক সদস্য, এ্যাব কেন্দ্রীয় কমিটি), কৃষিবিদ মাহবুবুর রহমান টুটন (সাবেক সদস্য, এ্যাব কেন্দ্রীয় কমিটি), কৃষিবিদ মনির উদ্দিন আহাম্মেদ (সাবেক সদস্য, এ্যাব কেন্দ্রীয় কমিটি ও সাবেক সভাপতি, এ্যাব ময়মনসিংহ জেলা চ্যাপ্টার), এ.কে.এম. মাহবুবুর রশীদ গোলাপ (সাবেক সাধারণ সম্পাদক, এ্যাব বাকৃবি চ্যাপ্টার), কৃষিবিদ ড. মাহবুবুর রহমান খান (সাবেক সাধারণ সম্পাদক, এ্যাব ময়মনসিংহ জেলা চ্যাপ্টার), কৃষিবিদ মো. জসিম উদ্দিন জনি (সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, স্বেচ্ছাসেবক দল ময়মনসিংহ দক্ষিণ), কৃষিবিদ মো. জিয়াউর রহমান রেফি (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, এ্যাব বাকৃবি চ্যাপ্টার), কৃষিবিদ এ.এম. জাহিদুল আবেদীন, কৃষিবিদ হাবিব মহাম্মদ সাইফুর রহমান খালিদ, কৃষিবিদ ড. মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন, কৃষিবিদ মো. শরিফুল ইসলাম, কৃষিবিদ মো. একরামুল ইসলাম, কৃষিবিদ শামীমা আক্তার ঝর্না, কৃষিবিদ মো. আতিকুজ্জামান, কৃষিবিদ ড. আবু তাহের কাইয়ুম, কৃষিবিদ মো. আসাদুল হক, কৃষিবিদ মো. ফরহাদ হোসেন, কৃষিবিদ ড. মো. জুলকার নাইন এবং ইঞ্জিনিয়ার মো. হামজা তালুকদার (সভাপতি, ডিইএবি)।
সমাবেশ থেকে হামলার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজসহ সংশ্লিষ্ট আলামত পর্যালোচনা করে দায়ীদের শনাক্তকরণ, দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়। বক্তারা সতর্ক করে বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে সারাদেশের কৃষিবিদ, পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।
এদিকে ঘটনার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে পৃথক বিবৃতি দিয়েছে ভেটেরিনারি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ভ্যাব), এ্যাব বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় চ্যাপ্টার, এ্যাব ময়মনসিংহ জেলা চ্যাপ্টার, এ্যাব ঢাকা জেলা চ্যাপ্টার, এ্যাব চট্টগ্রাম চ্যাপ্টার এবং এ্যাব পার্বত্য চট্টগ্রাম চ্যাপ্টার। বিবৃতিগুলোতে ডা. শাহাদাত হোসেন পারভেজের ওপর সংঘটিত হামলার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
তবে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন সমাবেশে উপস্থিত বক্তারা।
পেশাজীবী অঙ্গনে আলোচিত এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কৃষিবিদ সমাজে উদ্বেগ বাড়ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, মতপ্রকাশ ও প্রতিবাদের অধিকারকে সম্মান জানিয়ে যে কোনো অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্ত এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই এ ধরনের সংকট নিরসনের একমাত্র গ্রহণযোগ্য পথ।



