৯ ভাদ্র ১৪২৬, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ২৩ জিলহজ্জ ১৪৪০
শিরোনাম :

লবণ পানির আগ্রাসনে ১৫০ একর জমির ধান নষ্ট

Published at মে ২৮, ২০১৯

ফকির শহিদুল ইসলাম (খুলনা) : যশোরের অভয়নগর উপজেলার পায়রা ইউনিয়নের গয়ার বিলে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করায় প্রায় ১৫০ একর জমির ইরি ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিএডিসি সেচ প্রকল্পের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক অভিযোগ করেছে। জানা গেছে, উপজেলার পায়রার গয়ার বিলে বিআরডিসির সেচের আওতায় চলতি মৌসুমে প্রায় ১৫০ একর জমি কৃষক চাষাবাদ করেন। বিআরডিসির ওই সেচ প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা আছর আলী বোরিংয়ের মাধ্যমে ওই জমিতে সেচ দেওয়ার কথা থাকলেও নদীর লবণাক্ত পানি দিয়ে সেচ দিতে থাকেন। কৃষক নোনা পানি সেচে না দেওয়ার জন্য বাধা দিলেও আছর আলী স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর সহায়তায় জোর করে নদীর লবণাক্ত পানি চাষাবাদের জমিতে প্রবেশ করায়। বিষয়টি ওই মাঠের দায়িত্বে থাকা কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা লুৎফর রহমানকে কৃষক জানান।

তিনিও বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে আমলে না নিয়ে দায়সারাগোছের দায়িত্ব পালন করেন। এর ফলে অতিরিক্ত মাত্রার লবণাক্ত পানি সেচের কাজে ব্যবহার করায় ওই বিলের প্রায় দেড়শ’ একর জমির ইরি ধানের গোছা নষ্ট হয়ে গেছে। লবণের প্রভাবে ধান বের হওয়ার আগে ধানের গোছা লাল রং ধারণ করে। এ অবস্থায় কৃষক ইরি ধান ঘরে তুলতে পারছেন না। জমিতে লবণাক্তের প্রভাব থাকায় আগামী বোরো মৌসুমে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, অধিকাংশ জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আ. হক, নুরুল সরকার, সাদেক সরদার, সবুর মোল্লা, জহুরুলসহ অসংখ্য কৃষক বলেন, এ বছর মনে হয় ঘরে একমুঠো ধান ওঠাতে পারব না। তারা বলেন, প্রজেক্টের মাধ্যমে পাম্প দিয়ে পানি আনা হয়। কিন্তু লবণাক্ত পানি দিতে নিষেধ করা হয়। বিষয়টি কৃষি বিভাগের দায়িত্বে থাকা লুৎফর রহমানকে জানালেও কোনো সুরাহা করেননি। এ বিষয়ে বিআরডিসি সেচ প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা মাওলানা আছর আলীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, লোনা পানিতে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তবে মারাত্মক কোনো ক্ষতি হয়নি। প্রথমে নদীর পানি দিয়ে সেচ দিলেও পরে বোরিংয়ের মাধ্যমে পানি তুলে সেচ দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে ওই মাঠের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা লুৎফর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত করার জন্য কৃষি কর্মকর্তা বরাবর লিখিত প্রতিবেদন দাখিল করেছি। উপজেলা সিনিয়র কৃষি কর্মকর্তা গোলাম সামদানীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে অবগত নই।

This post has already been read 100 times!

Fixing WordPress Problems developed by BN WEB DESIGN