Sunday 16th of June 2024
Home / ফসল / লবণাক্ত জমিতে বাঁধাকপি আবাদে লাভের মুখ দেখছেন খুলনার কৃষকরা

লবণাক্ত জমিতে বাঁধাকপি আবাদে লাভের মুখ দেখছেন খুলনার কৃষকরা

Published at জানুয়ারি ৯, ২০২৪

ফকির শহিদুল ইসলাম (খুলনা) : বাঁধাকপি রবি মৌসুমের একটি প্রধান সবজি। দেশের প্রায় সব অঞ্চলেই বাঁধাকপির চাষ হয়। বাঁধাকপি একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর সবজি। এদেশে উৎপাদিত বাঁধাকপির প্রায় সব জাতই বিদেশী ও হাইব্রিড। সব জাতের বীজ এদেশে উৎপাদন করা যায়না। তবে এদেশে বীজ উৎপাদন করা যায় বারি উদ্ভাবিত এমন জাতও আছে। খুলনাঞ্চলের লবণাক্ত জমিতে বাঁধাকপি আবাদ করে লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছেন কৃষকরা ।

খুলনায় শীতকালীন সবজি উচ্চ ফলনশীল বাঁধা কপি চাষাবাদ করে কৃষকরা আশানুরুপ দাম পাওয়ায় অনেকে খুশি। চলতি মওসুমে শুরু থেকেই বাধা কপিতে তারা বেশি লাভবান হয়েছেন। মৌসুমের শেষের দিকেও ভালো দামে কপির বিক্রি করেছেন। খুলনাঞ্চলের কৃষকরা এক জমিতে ২ বার কপির চাষ করে লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছেন। কৃষকরা এসআরডিআইর  ইউনিয়ন সহায়িকা ভিক্তিক সার প্রয়োগের মাধ্যমে উচ্চ ফলনশীল জাতের বাঁধা কপি চাষাবাদ করেছেন । এই পদ্ধতিতে বাঁধা কপি চাষাবাদ আবাদ করে বাম্পার ফলন পেয়েছেন কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকলে থাকায় বাঁধাকপিসহ সকল সবজির ফলনও ভালো হয়েছে। বাঁধাকপির উৎপাদনের শুরু থেকে ভালো দাম পেয়ে চাষিরা খুশি। এখন দেশে সর্বত্র হাইব্রীড বাঁধাকপির চাষ হওযায় ফলনও বেড়েছে। এক একটি কপির ওজন এক থেকে দেড় কেজি।

জানা গেছে, গোপালগঞ্জ-খুলনা-বাগেরহাট-সাতক্ষীরা-পিরোজপুর(জিকেবিএসপি) এসআরডিআই(অংঙ্গ) কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের ইউনিয়ন সহায়িকা ভিক্তিক সার প্রয়োগের মাধ্যমে প্রকল্পভুক্ত এলাকায় কৃষকদের উচ্চ ফলনশীল জাতের বাঁধা কপি চাষাবাদ সম্প্রসারন করা হয় । তারই ধারাবহিকতায় লবণাক্ত উপকুলীয় এলাকায় বাঁধাকপি চাষ সম্প্রসারনে ইউনিয়নের মাটি ও সার সহায়িকার মাধ্যমে প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের প্রশিক্ষন দেয়া হয়। কৃষকদের বিনামুল্যে সার উচ্চ ফলনশীল জাতের বাঁধাকপির বীজ সহায়তা দেয়া হয়। কৃষকরা এ সহায়তা পেয়ে জমিতে বাঁধাকপি চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

ডুমুরিয়া উপজেলার বেশকিছু এলাকায় গিয়ে কথা হয় কপি চাষি খর্নিয়া ইউনিয়নের বাঁধাকপি চাষী দিপংকর সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, আগাম জাতের ফুলকপিও বাধা চাষ করে ভালো টাকা পেয়েছি। পৌষ মাসের শুরুতেই জমি থেকে প্রতিটি বাঁধাকপি ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। আবার একই জমিতে দুই বার কপির চাষ করেছেন। দ্বিতীয় বার চাষে খরচ অনেক কম। এরকম বাজার বরাবর থাকলে চাষিরা অনেক লাভবান হবেন।

বটিয়াঘাটা উপজেলার গঙ্গারামপুরে প্রিতিশ মন্ডল, দাকোপ উপজেলার সুজিত,হরিদাশ সহ অনেক কৃষকরা জানান, গোপালগঞ্জ-খুলনা-বাগেরহাট-সাতক্ষীরা-পিরোজপুর(জিকেবিএসপি) এসআরডিআই(অংঙ্গ) কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিবেশ বান্ধব কৌশলে বাঁধা কপির চাষ করা হয়েছে। জমিতে তারা সেক্স্র ফেরোমন ফাঁদ ও হলুদ ফাঁদ টানিয়ে কপির আবাদ করছেন। এতে করে অতিরিক্ত হারে পেকার আক্রমণ কমেছে এবং ক্ষেতে অতিরিক্ত কীটনাশক প্রয়োগের প্রয়োজন হয়নি। পরিবেশ বান্ধব কৌশলে চাষে যেমন খরচ কম তেমনি সুস্থ সফল বিষ মুক্ত বাঁধাকপি উৎপাদন করা হচ্ছে বলে তারা জানান ।

তারা আরো বলেন, অন্যআন্য বছরের চেয়ে এবছর ফুলকপি ও বাঁধাকপির আবাদ বেশী হয়েছে। যে কারনে বাঁধকপি চাষিরা ভালো বাজার পাচ্ছেন। জমি থেকে প্রতিদিন বাঁধাকপি কিনে ট্রাক যোগে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা ।

গোপালগঞ্জ-খুলনা-বাগেরহাট-সাতক্ষীরা-পিরোজপুর (জিকেবিএসপি) কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক অমরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, বাঁধাকপি রবি মৌসুমের একটি প্রধান সবজি। বাঁধাকপি একটি অন্যতম পুষ্টিকর পাতা জাতীয় সবজি। এত প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘এ‘ রয়েছে। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি বেশ উপকারী। জিকেবিএসপি(১ম সংশোধনী) প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা সব সময় কৃষকদের মাটি পরিক্ষা,সার সহায়িকা দিয়ে সঙ্গে আছি। শুধু বাঁধকপি,টমেটোই নয় আমরা নিয়মিত শীতকালীন সবজি চাষে তাদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে আসছি। এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রকল্পভুক্ত এলাকায় কৃষকদের কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হয়। আমাদের প্রকল্প থেকে কৃষকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশী বিনা মুল্যে বীজ,সার এবং মাটি ও সার সহায়িকা দিয়ে কৃষকদের সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করতে পেরেছি। এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ মানব সম্পাদে পরিনত করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় লবনাক্ত খুলনা উপকুল এলাকার কৃষকরা প্রশিক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে শীতকালীন সবজি বাঁধাকপি আবাদ করছেন। একই জমিতে ২ বার কপি চাষ করছেন। এতে খরচের হার কম হওয়ায় তাদের লাভের পরিমান বাড়ছে।

This post has already been read 2013 times!