
জয়পুরহাট সংবাদদাতা : জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার মনঝাড় বাজারে যেন বসেছিল খামারিদের মিলনমেলা। প্রাণবন্ত আলোচনা, অভিজ্ঞতা বিনিময় আর উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সেইফ ফিড খামারী মেলা-২০২৬’। “এসো নির্ভেজাল খাদ্যে স্বপ্ন পূরণ করি…” স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এ মেলায় মৎস্য ও পোল্ট্রি খাতের প্রায় ২০০ খামারি অংশ নেন।
মেলায় অংশ নেওয়া খামারিদের মধ্যে ছিলেন ১৫০ জন মৎস্য খামারি এবং ৫০ জন পোল্ট্রি খামারি। খামারিদের সরাসরি অংশগ্রহণে আয়োজনটি শুধু পণ্য ও প্রযুক্তি পরিচিতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য, সঠিক পুষ্টি ব্যবস্থাপনা এবং খামারের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর নানা দিক নিয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি করে।
সেইফ ফিড, আর বি এগ্রো লিমিটেড, কেজিএস গ্রুপ, উত্তরা, ঢাকা এ খামারি মেলার আয়োজন করে। সার্বিক সহযোগিতায় ছিল প্রতিষ্ঠানটির স্থানীয় পরিবেশক মেসার্স রাইসি ট্রেডার্স। প্রতিষ্ঠানটির প্রোপ্রাইটর মো. রুহুল মাহবুব নাহিদ।
মেলার আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন সেইফ ফিড, আর বি এগ্রো লিমিটেড, কেজিএস গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং) কৃষিবিদ মো. মিজানুর রহমান, নর্দার্ন জোনের অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং) মো. আনোয়ার সাদাত, অ্যাকোয়া নিউট্রিশন অ্যান্ড অ্যাকোয়াকালচার, কেজিএস গ্রুপের পুষ্টিবিদ সাইফি নাসির, বগুড়া রিজিয়নের ডেপুটি ম্যানেজার (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং) মো. আব্দুর রাজ্জাক, জয়পুরহাটের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং) ফয়সাল ইবনে শফিক এবং বগুড়া রিজিয়নের ডেপুটি ম্যানেজার (টেকনিক্যাল) ডা. বাপ্পি শমীম।

মেলায় খামারিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। এ সময় মাছ ও পোল্ট্রির সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করা, মানসম্মত ও নিরাপদ ফিড ব্যবহারের গুরুত্ব এবং আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। খামারিরাও তাদের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, উৎপাদনসংক্রান্ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ এবং প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, মৎস্য ও পোল্ট্রি উৎপাদনে খাদ্যের মান ও সঠিক পুষ্টি ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানসম্মত খাদ্য ব্যবহারের পাশাপাশি খামারের পরিবেশ, ব্যবস্থাপনা ও প্রাণীর স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি খামার পরিচালনার ঝুঁকিও কমানো সম্ভব।
আয়োজকদের মতে, মাঠপর্যায়ের খামারিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সমস্যাগুলো জানা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতেই এ ধরনের খামারি মেলার আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে নিরাপদ খাদ্য ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থাপনার সঙ্গে খামারিদের আরও সম্পৃক্ত করাও এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
মৎস্য ও পোল্ট্রি খাতের খামারিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দিনব্যাপী আয়োজনটি পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়। খামারিদের পারস্পরিক মতবিনিময় ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ‘সেইফ ফিড খামারী মেলা-২০২৬’। আয়োজকদের প্রত্যাশা, মাঠপর্যায়ে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে নিরাপদ খাদ্য ব্যবহারে সচেতনতা বাড়ার পাশাপাশি মৎস্য ও পোল্ট্রি খাতের টেকসই উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।



