
রাজশাহী সংবাদদাতা: নাটোরে (১৩ অক্টোবর) মঙ্গলবার বেলা ১১.০০ টায় নাটোর জেলা প্রশাসকের সম্মলেন কক্ষে আয়োজিত এ কর্মশালার আয়োজন করেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং ‘‘Inclusion of Biofortified Crops in Government Programs”প্রকল্পের অর্থায়নে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।
‘‘হারভেষ্ট গ্লাস সল্যুশন এর নেটওয়ার্ক অংশীদার মিউট্রিশিয়াস এগ্রিফিউচার বাংলাদেশ লিমিটেড মাল্টি-সেক্টরাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন’’ প্রকল্পের আওতায় দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাটোর জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিট্রেট মোছাঃ সুমনী আক্তার। সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, নাটোর জেলার উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. হাবিবুল ইসলাম খান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাটোর জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আসমা খাতুন, নাটোর জেলার সির্ভিল সার্জনের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা সরকার মোঃ সফিকুল ফেরদৌস, রাজশাহী জেলার বিএডিসি (বীজবিপণন ) উপপরিচালক কে এম গোলাম সারওয়ার , জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত ) মোছাঃ ফারজানা ইসলাম, জেলা পরিবার পরিকল্পনার উপপরিচালক মোঃ আনোয়ারুল আজিম, ২৫০ শষ্যা জেলা হাসপাতাল নাটোর সিনিয়র স্টাফ নার্স, জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার, অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য/উদ্যান/পিপি) উপপরিচালক কার্যালয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নাটোর।
‘‘জিংক বায়োফর্টিফইড বি ধান১০০’’
‘‘Inclusion of Biofortified Crops in Government Programs” প্রকল্পের অর্থায়নে কর্মশালাটি স্বাগত বক্তব্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন কান্ট্রি ম্যানেজার, এইচ পি এস মোঃ ওয়াহিদুল আমিন, মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রিসার্চ অ্যান্ড প্রজেক্ট ম্যানেজার,এইচ পি এস মোঃ জাকিউল হাসান,
সভাপতি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাঁর বক্তব্যে বলেন, জিংক ধানের চাষাবাদ, জিংক ধানের উপকারিতা, মানবদেহে জিংকের প্রয়োজনীয়তা, জিংক ধানের বীজ উৎপাদন করতে হবে। জিংক ধানের ভাত নিয়মিত খাওয়ার মাধ্যমে জিংকের ঘাটতি মেটানো যায়। সকলেরই খাদ্য তালিকায় জিংক পর্যাপ্ত থাকা দরকার। বাংলাদেশে চারটি ফসলে বায়োফর্টিফাইড জাত আছে: ধান ১১টি, গম ২টি, মসুর ডাল (আয়রন সমৃদ্ধ) ৩টি এবং কমলা শাঁসের মিষ্টি আলু (ভিটামিন এ সমৃদ্ধ) ১টি। তিনি আরো বলেন বোরো মৌসুম ব্রি ধান৭২ ব্রি ধান৭৪, ব্রি ধান৮৪, ব্রি ধান১০০ ও ব্রি ধান১০২ ,আমন মৌসুমে ব্রি ধান৭২ ও ব্রি ধান৬২ এবং গম ফসলের জাত বারিগম-৩৩, বারি মসুর৮ হলো জিংক সমৃদ্ধ ফসলের জাত। জিংক সমৃদ্ধ খাবার খাদ্য তালিকায় নিয়মিতভাবে রাখার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান এবং জিংক সমৃদ্ধ ধান চাষ করতে বলেন।
“জিংক চালের ভাত খেলে পুষ্টি মেধা উভয় মেলে”
বিশেষ অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, দেশের প্রায় ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ শিশু এবং ৪৫ দশমিক ৪০ শতাংশ নারীর মধ্যে জিঙ্কের ঘাটতি রয়েছে। জিঙ্কের অভাবেই শিশুরা খাটো এবং অপুষ্টিতে ভুগছে। চালের মাধ্যমে এই অপুষ্টি দূর করা সম্ভব। কারণ মোট চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ পুষ্টি চালে পাওয়া সম্ভব। তাই জিঙ্ক সমৃদ্ধ চাল উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি জনপ্রিয় করতে হবে। বাংলাদেশে অপুষ্টি এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। গর্ভবতী নারী ও পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে অপুষ্টি/ মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে বিদ্যমান-যার ফলে‘‘ সুপ্ত ক্ষুধা ‘’ এবং মা- শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে।
কিশোরী মেয়ে ও গর্ভবতী মায়ের জিংকের অভাব হলে শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেয় এবং গর্ভের বাচ্চার স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্থ হয়। দৈনিক শিশুদের ৩-৫ মিলিগ্রাম ও মহিলাদের ৮-৯ মিলিগ্রাম জিংকের প্রয়োজন। মস্তিষ্কের যথাযথ বৃদ্ধি না হওয়া, ক্ষুদামন্দা খাবারে যথাযথ স্বাদ ও গন্ধ না পাওয়া হজমে দুর্বলতা, রোগ ব্যাধির আক্রমণ বৃদ্ধি, অবসাদ, বন্ধত, স্মৃতিশক্তি ও একাগ্রতা হ্রাস, চামড়ার ক্ষত নিরাময়ে বিলম্ব এবং চুল পড়া রোগ জিংক ঘাটতির লক্ষণ। তিনি পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জনের জন্য সকলকে নিজ নিজ জায়গা হতে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, নাটোর জেলার অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ শামসুন নাহার ভূঁইয়া
অনুষ্ঠানে আরোও উপস্থিত ছিলেন নাটোর জেলার সকল উপজেলার কৃষি অফিসার ও কৃষি তথ্য সার্ভিস, রাজশাহী, এবং সাংবাদিকসহ প্রায় ৩০ জন উপস্থিত ছিলেন।



