৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ২৩ রবিউল-আউয়াল ১৪৪১
শিরোনাম :

বিনা ধান-১৯ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আটঘরিয়ায় মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

Published at আগস্ট ২৬, ২০১৯

মো. এমদাদুল হক (পাবনা): বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনষ্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত বিনা ধান-১৯ এর প্রচার ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার হাজিপাড়ার মাঠে রবিবার (২৫ আগষ্ট) এক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত মাঠ দিবসটি আটঘরিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও ঈশ্বরদী বিনা উপকেন্দ্র কর্তৃক আয়োজিত হয়। আর মাঠ দিবসে আর্থিক বন্ধবস্ত করে পরিবর্তিত আবহাওয়া উপযোগী বিভিন্ন ফসল ও ফলের জাত উদ্ভাবন কর্মসূচি গ্রহণ করে বিনা প্রকল্প।

আটঘরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ প্রশান্ত কুমার সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাঠ দিবসে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনষ্টিটিউট, ঈশ্বরদী উপকেন্দ্রের উধ্বর্তন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. রোকনুজ্জামান, আটঘরিয়া উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আব্দুর রাজ্জাক। কৃষি তথ্য সার্ভিসের এআইসিও মো. এমদাদুল হক, উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম ও জাহিদ হাসান হিরো।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, ঈশ্বরদীর পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনষ্টিটিউটের ফার্ম ম্যানেজার আব্দুস সোবাহান। বিনা ধান -১৯ এর আবাদকারী প্রদর্শনী প্লটের চাষী দুলাল মৃধা বলেন, আমি আউশ মৌসুমে এক বিঘা জমির প্রদর্শনী প্লটে এই ধান আবাদ করে ১৮ মন ফলন পেয়েছি। সেচ না দিলেও চলে। এই ধানের জীবন কাল ১শ’ ৫দিন। বিনা ধান-১৯ এর চাউল সরু চিকন। অন্যান্য আউশ ধানের চেয়ে ফলনও বেশী।

অনুষ্ঠানে ধানটির উদ্ভাবক বিভাগ পরমাণূ কৃষি গবেষণা ইনষ্টিটিউট এর উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. রোকনুজ্জামান বলেন, বিনা ধান-১৯ আউশ এবং আমন মৌসুমে আবাদ উপযোগী এই ধানটি ফলনের দিক থেকে অন্যান্য আউশ জাতের ধানের চেয়ে ফলন বেশী। আউশ মৌসুমে বপন অথবা রোপন দুই পদ্ধতিতেই এ ধানের আবাদ করা যায়। পরিবেশ বান্ধব পানি সাশ্রয়ী এ ধানটি খড়া সহিষ্ণু এবং স্বল্প জীবন কাল বিশিষ্ট। ধানটির ভাত খেতে বেশ ভালো, চাউল সরু চিকন এবং সাদা।

তিনি আরো বলেন, মাটি ছাড়া আমরা ফসল উৎপাদন করতে পারবো না। এজন্য মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। অনুষ্ঠানের সভাপতি আটঘরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ প্রশান্ত কুমার সরকার বলেন, পরমাণু কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বৈরী আবহাওয়ার সাথে খাপ খাওয়ার উপযোগী এ ধানটি উদ্ভাবন করেছে যা কৃষকের জন্য খুবই লাভজনক। আউশ-আমন দুই মৌসুমেই আবাদ করা যায়। ধানটির জীবন কাল অল্প হওয়ায় চাষের জন্য উপযোগী। তিনি উপস্থিত সকল কৃষক-কৃষাণিকে এই জাতটি আবাদের মাধ্যমে লাভবান হওয়ার জন্য অনুরোধ জানান।

অনুষ্ঠানে প্রায় ২ শতাধিক কৃষক-কৃষাণি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন, ঈশ্বরদী পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনষ্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক সহকারি মো. আমজাদ হোসেন।

This post has already been read 190 times!

Fixing WordPress Problems developed by BN WEB DESIGN