
মো. খোরশেদ আলম জুয়েল: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে গভীর সংকটে পড়েছে ইরানের পোলট্রি শিল্প। ফিডের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় গত কয়েক সপ্তাহে দেশটির খামারিরা প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ ডিমপাড়া মুরগি ৫০ সপ্তাহ বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন।
এ তথ্য জানিয়েছেন ইরানের কাজভিন প্রদেশ লেয়ার চিকেন চেইনের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান নাসের নাবিপুর। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম তাবনাক-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বছরের শুরু থেকেই দুর্বল অবস্থায় থাকা ইরানের পোলট্রি খাত এখন ভয়াবহ সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ বহু খামার কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হতে পারে।
ঋণের সুদ ১১০ শতাংশ পর্যন্ত
নাবিপুর জানান, খামারিরা এখন একাধিক চাপের মুখে রয়েছেন। সবচেয়ে বড় সংকট দেখা দিয়েছে তারল্য বা নগদ অর্থের ঘাটতিতে। আর্থিক অস্থিরতার কারণে ব্যাংক ঋণের সুদের হার কোথাও কোথাও ১১০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। ফলে স্বল্পসুদে ঋণ পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে এবং দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনাই কঠিন হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, সরকার বিভিন্ন সময় সহজ শর্তে ঋণ ও সহায়তার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে খাতটিতে তেমন কার্যকর সহায়তা পৌঁছায়নি।
নাবিপুরের ভাষায়, “বিশ্বের কোন শিল্প ১১০ শতাংশ সুদ দিয়ে টিকে থাকতে পারে?” সূত্র: পোলট্রি ওয়ার্ল্ড
ফিড সংকটে উৎপাদন কমছে
ফিডের মূল্যবৃদ্ধির কারণে উৎপাদনও দ্রুত কমে যাচ্ছে। আগে যে খামারিরা ৫০০ টন পর্যন্ত ফিড কিনতেন, এখন তারা মাত্র ১০ থেকে ১৫ টন কিনতে পারছেন বলে জানান নাবিপুর।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে তাবনাক জানিয়েছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে শ্রমিকের মজুরি ও পরিবহন ব্যয় প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে ফিড অ্যাডিটিভ বাজারেও তীব্র সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। চলমান যুদ্ধ ও বাণিজ্য প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় কিছু অ্যাডিটিভের দাম গত বছরের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেড়েছে।
সরকারের মূল্যনিয়ন্ত্রণে ক্ষোভ
সংকট আরও তীব্র করেছে সরকারের খামার পর্যায়ের মূল্যনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। নাবিপুরের অভিযোগ, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেলেও সরকার নির্ধারিত দামের কারণে খামারিরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না।
ইরানের পোলট্রি খামারিরা দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে খামার থেকে বাজার পর্যন্ত যেতে যেতে ডিমের দাম তিনগুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়, অথচ সরকার সেই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা নিতে পারছে না।
নাবিপুর বলেন, “সরকার মধ্যস্বত্বভোগীদের দমন করতে পারে না, কিন্তু উৎপাদকদের কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য করার ক্ষমতা ঠিকই দেখায়।”



