
মো. খোরশেদ আলম জুয়েল: দেশে নিরাপদ ডিম ও মাংস উৎপাদন নিশ্চিত করতে জাতীয় পোল্ট্রি উন্নয়ন নীতিমালা ২০২৬-এর চূড়ান্ত খসড়ায় পোল্ট্রির টিকা ও ঔষধ ব্যবহারে যুগোপযোগী ও কঠোর নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নীতিমালায় এন্টিবায়োটিকের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, ঔষধের মাননিয়ন্ত্রণ এবং এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্টেন্স নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, দেশে আমদানিকৃত বা স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পোল্ট্রির ঔষধ, টিকা, রোগ নিরূপণ কিট, এন্টিজেন ও এন্টিবডির মান প্রাণিসম্পদ সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। একই সঙ্গে পোল্ট্রি খামারে ঔষধ, টিকা, এন্টিবায়োটিক, প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ডিম ও মাংসে ঔষধের ক্ষতিকর অবশিষ্টাংশ যেন ভোক্তার শরীরে প্রবেশ না করে, সে লক্ষ্যেই নীতিমালার খসড়ায় প্রত্যাহারকাল মেনে চলাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। টেট্রাসাইক্লিন গ্রুপের অক্সিটেট্রাসাইক্লিন ও ক্লোরটেট্রাসাইক্লিন ব্যবহারের পর মাংসে চার থেকে পাঁচ দিন এবং ডিমে তিন থেকে চৌদ্দ দিন সময় অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। ম্যাক্রোলাইড গ্রুপের টাইলোসিন, ইরাইথ্রোমাইসিন ও টিলমিকোসিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে মাংসে দুই থেকে নয় দিন এবং ডিমে শূন্য থেকে এগারো দিন প্রত্যাহারকাল নির্ধারণ করা হয়েছে।
ফ্লোরোকুইনোলন গ্রুপের এনরোফ্লক্সাসিন ও সিপ্রোফ্লক্সাসিন ব্যবহারের পর মাংসে সাত থেকে নয় দিন এবং ডিমে পনের থেকে আটাশ দিন সময় উল্লেখ করা হয়েছে, যা ডিম উৎপাদনকারী মুরগির ক্ষেত্রে ব্যবহার নিরুৎসাহিত হিসেবে বিবেচিত। লিনকোসামাইড গ্রুপের লিনকোমাইসিন ব্যবহারে মাংসে তের দিন এবং ডিমে নয় দিন সময় মানার নির্দেশ রয়েছে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, সালফোনামাইড গ্রুপের সালফাডিমিডিন ব্যবহারের পর মাংসে দশ থেকে আটাশ দিন এবং ডিমে দশ থেকে চল্লিশ দিন প্রত্যাহারকাল অনুসরণ করতে হবে। পেনিসিলিন গ্রুপের প্রোকেইন পেনিসিলিন ও এমোক্সিসিলিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে মাংসে সাত থেকে আটাশ দিন এবং ডিমে সাত দিন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এমাইনোগ্লাইকোসাইড গ্রুপের জেনটামাইসিন ও নিওমাইসিন ব্যবহারের পর মাংস ও ডিম উভয়ের জন্যই চৌদ্দ দিন প্রত্যাহারকাল মানতে হবে।
এছাড়া নাইট্রোফিউরান গ্রুপের ফিউরাজোলিডোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে মাংস ও ডিম উভয়ের জন্য আটাশ দিন এবং এমফেনিকল গ্রুপের ফ্লোরফেনিকল ব্যবহারের পর মাংসে সাত থেকে আটাশ দিন ও ডিমে আটাশ দিন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ডিম উৎপাদনকারী মুরগির জন্য ব্যবহার অনুপযোগী হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, জাতীয় পোল্ট্রি উন্নয়ন নীতিমালা ২০২৬ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে এন্টিবায়োটিকের অপব্যবহার কমবে, এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্টেন্সের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং ভোক্তারা নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত ডিম ও মাংস পাওয়ার নিশ্চয়তা পাবেন। একই সঙ্গে দেশের পোল্ট্রি শিল্প আরও দায়িত্বশীল, টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন উৎপাদনের দিকে এগিয়ে যাবে।



