
এগ্রিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: পোল্ট্রির প্যারেন্ট স্টক (পি এস) বাচ্চা আমদানি নিষিদ্ধ বা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ দেশের ডিম ও মুরগির মাংসের বাজারে ভয়াবহ সংকট সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশন (BPIA)।
আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশন (BPIA) সভাপতি মোশারফ হোসেন চৌধুরী ও মহাসচিব এম. সাফির রহমান রহমান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া পি এস বাচ্চা আমদানি সীমিত করা হলে প্রান্তিক ও মাঝারি খামারিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে ডিম ও মুরগির উৎপাদনে, যার ফলে ভোক্তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় এই খাদ্যপণ্য কিনতে বাড়তি দাম গুনতে হতে পারে।
BPIA বলছে, পোল্ট্রি খাত শুধু একটি শিল্প নয়—এটি দেশের প্রাণিজ আমিষের প্রধান উৎস, গ্রামীণ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি এবং লাখো মানুষের জীবিকা ও কর্মসংস্থানের ভিত্তি। এই খাতে সরবরাহ সংকট তৈরি হলে তা জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সংগঠনটির মতে, বর্তমান কাঠামোয় পি এস বাচ্চা আমদানি সীমিত হলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে হাতে গোনা কয়েকটি বৃহৎ করপোরেট প্রতিষ্ঠান, যারা একই সঙ্গে গ্র্যান্ড প্যারেন্ট (জিপি), প্যারেন্ট স্টক, কমার্শিয়াল লেয়ার ও ব্রয়লার বাচ্চা উৎপাদন, ফিড মিল এবং কন্ট্রাক্ট গ্রোয়িং ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। এর ফলে এসব করপোরেট গোষ্ঠীর বাইরে থাকা অধিকাংশ হ্যাচারি ও ব্রিডার ফার্ম কার্যত পি এস বাচ্চা পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে।
BPIA সতর্ক করে জানায়, এতে বাজারে প্রতিযোগিতা কমে গিয়ে একটি অলিগোপলি কাঠামো তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা প্রস্তাবিত “পোল্ট্রি নীতিমালা ২০২৬” বাস্তবায়নের মাধ্যমে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিতে পারে। কিছু প্রতিষ্ঠান নিজেদের চাহিদা পূরণের পর সীমিত পরিমাণ পি এস বাচ্চা চড়া দামে বাজারে ছাড়লে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হবে।
সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, বাচ্চা সংকটে অনেক খামার বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে, উৎপাদন কমবে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়বে ডিম ও মুরগির বাজারে। এতে ভোক্তাদের অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যে এসব পণ্য কিনতে বাধ্য হতে হবে।
BPIA আরও জানায়, এই পরিস্থিতির সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। পোল্ট্রি খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত লাখো মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়বে, গ্রামাঞ্চলে আয় ও অর্থপ্রবাহ কমবে এবং সরকারের পক্ষে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখা কঠিন হয়ে উঠবে।
সংগঠনটি মনে করে, পি এস বাচ্চা আমদানিতে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বা অতিরিক্ত কঠোর নিয়ন্ত্রণ কোনো টেকসই সমাধান নয়। বরং আমদানিকে উন্মুক্ত ও নমনীয় রাখা প্রয়োজন, যাতে সংকটকালে দ্রুত পি এস বাচ্চা বা হ্যাচিং ডিম আমদানি করা সম্ভব হয়। এ ক্ষেত্রে দেশের বিদ্যমান পশু রোগ নিয়ন্ত্রণ আইন ও ডিম-মুরগি আমদানিসংক্রান্ত নীতিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেয় BPIA।
বিবৃতির শেষাংশে সংগঠনটি সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলে, পোল্ট্রি খাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রতিযোগিতামূলক বাজার ব্যবস্থা, বহুমুখী সরবরাহ উৎস উন্মুক্ত রাখা এবং প্রান্তিক ও মাঝারি খামারির সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায়, পোল্ট্রি নীতিমালা ২০২৬-এর এই সিদ্ধান্ত ডিম ও মুরগির ভোক্তাদের জন্য গভীর সংকট ডেকে আনতে পারে।



