
মো. এমদাদুল হক ( রাজশাহী) : বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিডব্লিউএমআরআই) রাজশাহী আঞ্চলিক কেন্দ্রের আয়োজনে ‘গবেষণা পর্যালোচনা (২০২৫-২৬) ও ভবিষ্যৎ গবেষণা কর্মসূচি প্রণয়ন (২০২৬-২৭)’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) রাজশাহীর শ্যামপুরে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের আঞ্চলিক কেন্দ্রের সেমিনার কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট, নশিপুর, দিনাজপুরের পরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. আব্দুল হাকিম। রাজশাহী আঞ্চলিক কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. আজিজুর রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বগুড়া অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুল ওয়াদুদ, বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির আঞ্চলিক বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. মোতোলেব হোসেন এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিআরআরআই) রাজশাহী কার্যালয়ের চিফ সায়েন্টিফিক অফিসার কৃষিবিদ ড. মোহাম্মদ হোসেন।
কর্মশালার শুরুতে গম চাষের বর্তমান পরিস্থিতি ও চাষাবাদ বিষয়ে স্বাগত বক্তব্য দেন কৃষিবিদ ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি গম ও ভুট্টার নতুন জাত উদ্ভাবন, রোগবালাই ও পোকামাকড়ের সমস্যা এবং এসব মোকাবিলায় চলমান গবেষণা কার্যক্রম নিয়ে পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে বিস্তারিত আলোচনা করেন। একই সঙ্গে গম ও ভুট্টার উৎপাদন বাড়িয়ে দেশের খাদ্য চাহিদা পূরণে অধিকতর স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিবিদ ড. মো. আব্দুল হাকিম বলেন, মানুষের নিরাপদ খাদ্যের চাহিদা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্য অর্জনে লাভজনক, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব কৃষিব্যবস্থা নিশ্চিত করতে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করছে। বাংলাদেশে গম ও ভুট্টার মতো দানাদার ফসলের চাষাবাদ আরও বৃদ্ধি ও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, গমের আধুনিক জাতগুলোর বপনের উপযুক্ত সময় ১৫ থেকে ৩০ নভেম্বর। তবে তাপসহনশীল কিছু জাত ৫ থেকে ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে বপন করলেও ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। অন্যদিকে, নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দেরিতে গম বপন করলে ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
কর্মশালায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের গবেষণা কার্যক্রমের পর্যালোচনা এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সম্ভাব্য গবেষণা কর্মসূচি প্রণয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি গম চাষের সমসাময়িক সমস্যা, উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা ও এসব সমস্যা সমাধানের কৌশল নিয়েও মতবিনিময় করেন অংশগ্রহণকারীরা। এছাড়া ভুট্টার হাইব্রিড জাতের ফলন, আবাদ সম্প্রসারণ এবং উৎপাদন সম্ভাবনা সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. আজিজুর রহমান বলেন, গম ও ভুট্টা উৎপাদনের দিক থেকে রাজশাহী অঞ্চল দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। আগামী মৌসুমে প্রয়োজনীয় বীজ, কৃষি উপকরণ এবং তথ্য-প্রযুক্তি কৃষক পর্যায়ে যথাসময়ে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হলে এবারও গম ও ভুট্টা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।
কর্মশালায় বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন পর্যায়ের বিজ্ঞানী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি এবং সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।



