
রাজশাহী সংবাদদাতা: চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে রবিবার (৩০ আগস্ট) সকাল ১০টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকের সম্মেলন কক্ষে রবি/২০২৬-২৭ মৌসুমের মৌসুমের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে । সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আতিকুর রহমান । এতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার কৃষি সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, বেসরকারি কর্মকর্তা, কৃষি উদ্যোক্তা ও অন্যান্য অংশীজন সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উল্লেখিত জেলার রবি/২০২৬-২৭ মৌসুমের কর্মপরিকল্পনা পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে উপস্থাপনায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এতে আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, রাজশাহী, বিএডিসি, বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি, বিএমডিএ, হর্টিকালচার সেন্টার, বিনা উপকেন্দ্র, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সুগারক্রপ ইনস্টিটিউট, রাজশাহী, গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট, রাজশাহী, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট এবং কৃষি তথ্য সার্ভিসসহ বিভিন্ন দপ্তর তাদের কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
সভাপতির বক্তব্যে কৃষিবিদ মো. আতিকুর রহমান বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা একটি সম্ভাবনাময় কৃষি অঞ্চল । আম, ধান, ভুট্টা, আঁখ, ডাল, তেলবীজ, পেঁয়াজ ও সবজি উৎপাদনে এ জেলার বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত জাত, সেচ সুবিধা এবং কৃষকদের পরিশ্রমের ফলে এ অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন ক্রমাগত এগিয়ে যাচ্ছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত আবহাওয়া, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, রোগবালাই এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার মতো চ্যালেঞ্জও রয়েছে । ফসল উৎপাদনে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। রবি/২০২৬-২৭ মৌসুমে আমাদের কর্মপরিকল্পনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও কৃষি তথ্যসেবা প্রদান, উৎপাদিত পণ্যের সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় কমানো, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধি। তিনি আরো বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসার, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে নিজ নিজ এলাকায় সার সিন্ডিকেট ঠেকাতে ও ফসলভিত্তিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। কৃষকদের মধ্যে নারী কৃষক, তরুণ কৃষক এবং নতুন কৃষি উদ্যোক্তাদেরও বিশেষভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে।
পরিশেষে তিনি বলেন, একটি ভালো কর্মপরিকল্পনা তখনই সফল হবে, যখন তার বাস্তবায়ন মাঠ পর্যায়ে দৃশ্যমান হবে। যেখানে কৃষক নিরাপদে ও লাভজনকভাবে ফসল উৎপাদন করবেন, ভোক্তা পাবেন নিরাপদ খাদ্য এবং কৃষি হবে আরও টেকসই, আধুনিক ও স্মার্ট।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার কৃষি সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, বেসরকারি কর্মকর্তা, কৃষি উদ্যোক্তা ও অন্যান্য অংশীজন সভায় উপস্থিত ছিলেন।



