
রাজশাহী সংবাদদাতা: রবি ২০২৬-২৭ মৌসুমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকদের প্রয়োজনীয় কৃষি প্রযুক্তি ও উপকরণ সরবরাহ এবং সমন্বিতভাবে কৃষি কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে রাজশাহীতে জেলা কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল ১০টায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রাজশাহীর আয়োজনে উপপরিচালকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় রবি ২০২৬-২৭ মৌসুমের কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন, পর্যালোচনা, বিস্তারিত আলোচনা ও অনুমোদন করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রাজশাহীর উপপরিচালক কৃষিবিদ মোস্তফা কামাল হোসেন। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার কৃষি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, সরকারি-বেসরকারি কৃষি প্রতিষ্ঠান, কৃষি উদ্যোক্তা এবং অন্যান্য অংশীজন অংশগ্রহণ করেন। সভায় রবি মৌসুমের ফসল উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ, মানসম্মত বীজের সরবরাহ, সুষম সার ব্যবহার, সেচ ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই দমন এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি), বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ), হর্টিকালচার সেন্টার, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি), বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটসহ সংশ্লিষ্ট গবেষণা ও সম্প্রসারণ প্রতিষ্ঠান এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মকৌশল ও কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
সভাপতির বক্তব্যে কৃষিবিদ মোস্তফা কামাল হোসেন বলেন, বর্তমান সময়ে সার ব্যবস্থাপনা নিয়ে যে চাপ ও সংকট রয়েছে, তা মোকাবিলায় সবাইকে সচেতন ও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ফসল উৎপাদনে প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার ব্যবহার করতে হবে এবং জমিতে সারের অপচয় রোধে কৃষকদের সচেতন করতে হবে। কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অধিক ফলনশীল, রোগবালাই প্রতিরোধী ও জলবায়ু সহনশীল উন্নত জাত উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। এসব উন্নত জাত ও প্রযুক্তি কৃষকের মাঠে দ্রুত সম্প্রসারণ করা গেলে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকের আয় বাড়ানো সম্ভব হবে।
রবি মৌসুম শুরুর আগেই কৃষকদের প্রয়োজনীয় বীজ প্রাপ্তি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট গবেষণা ও বীজ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধান, গম, সরিষাসহ অন্যান্য রবি ফসলের মানসম্মত বীজ যথাসময়ে সরবরাহের অনুরোধ জানান।
তিনি আরো বলেন, কৃষির উন্নয়নে কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের একক প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে গবেষণা, বীজ, সেচ, সার, প্রযুক্তি ও মাঠপর্যায়ের সম্প্রসারণ কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”সভায় রবি মৌসুমের কর্মপরিকল্পনার বিভিন্ন দিক নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় মাঠপর্যায়ে কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ, কৃষকদের প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ, প্রযুক্তি সম্প্রসারণ এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদারের বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।
সভায় আলোচনার পর রবি ২০২৬-২৭ মৌসুমের প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা ও অনুমোদন করা হয় এবং নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।



