
মো. গোলাম আরিফ (পাবনা): আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় রোপা আমন ধানের ব্লক প্রদর্শনীর চারা রোপণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) পাবনা সদর উপজেলার পীরপুর গ্রামে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, পাবনা সদর এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, পাবনা’র উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রামানিক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপপরিচালক বলেন, ফসল চাষাবাদে আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির ব্যবহার কৃষিকাজকে দ্রুত, সহজ এবং লাভজনক করে তুলেছে। পাওয়ার টিলার বা ট্রাক্টরের মাধ্যমে জমি তৈরি, রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে চারা রোপণ এবং কম্বাইন্ড হারভেস্টর ও থ্রেসার ব্যবহারের মাধ্যমে ধান কাটা, মাড়াই করলে সময়, শ্রম, উৎপাদন খরচ বহুলাংশে সাশ্রয় হয়।
ট্রেতে চারা উৎপাদনের সুবিধা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, এতে বীজের অপচয় রোধ হয়, সব চারা সমানভাবে ও সুস্থভাবে বাড়ে। শিকড়ের ক্ষতি না করে সহজে মূল মাটিতে রোপণ করা যায়। এছাড়া পরিচর্যা সহজ হয়, রোগবালাই কম হয় এবং অনেক কম জায়গা ও মাটিতে অধিক চারা উৎপাদন সম্ভব হয়। ট্রেতে উৎপাদিত ধানের চারা রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিনের সাহায্যে খুব কম খরচে ও কম সময়ে অধিক পমিাণ জমিতে রোপণ করা যায়।
আধুনিক জাত ও প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে উপপরিচালক বলেন, প্রতিনিয়ত আধুনিক জাত ও প্রযুক্তির উদ্ভাবন হচ্ছে, এগুলো আমাদের গ্রহণ করতে হবে। সমলয়ে চাষাবাদের মাধ্যমে ব্লক প্রদর্শনীতে নির্বাচিত ব্রিধান ১০৩ রোপা আমন মৌসুমের একটি উচ্চ ফলনশীল ও চিকন চালের আধুনিক জাত, ধানের দানা লম্বা ও চিকন। চাল সোজা এবং ভাত ঝরঝরে। চালে অ্যামাইলোজের পরিমাণ প্রায় ২৪ ভাগ এবং প্রোটিনের পরিমাণ প্রায় ৮.৩ ভাগ। গাছের কাণ্ড শক্ত ও মজবুত থাকে, ফলে সহজে হেলে পড়ে না এবং খড়ের পরিমাণ বেশি। বিঘাপ্রতি ফলন ২২-২৫ মণ পর্যন্ত হয়ে থাকে। প্রধান খাদ্য শস্য ধানসহ পেঁয়াজ, আলু, সবজি উৎপাদন ও সংরক্ষণে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের গুরুত্ব দিতে হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ মো. রাব্বি হাসান এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষিবিদ জাকিরুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি অফিসার, পাবনা সদর, পাবনা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ মোঃ লুৎফর রহমান ও কৃষি তথ্য সার্ভিস পাবনার, সহকারী তথ্য অফিসার, বাদল চন্দ্র সরকার। এছাড়া উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষন অফিসার মোঃ মোর্শেদুজ্জামান, সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপসহকারী কৃষি অফিসার নূর মোহাম্মদ ও প্রদর্শনীভুক্ত স্থানীয় কৃষক-কৃষাণী উপস্থিত ছিলেন।



