
মো. আমিনুল ইসলাম(রাজশাহী) : রাজশাহীর মোহনপুরে অসময়ের তরমুজ চাষ করে সফল হয়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা মো. সাফিউল ইসলাম। আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ কাজে লাগিয়ে উপজেলার বাকশমাইল ইউনিয়নের বিদ্যাধরপুর গ্রামে এক বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করে তিনি পেয়েছেন আশানুরূপ ফলন ও ভালো বাজারমূল্য। তার এ সাফল্য এলাকায় কৃষক ও বেকার তরুণদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।
সাফিউল ইসলাম অনার্স শেষ করে চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। শুরুতে নিজের জমিতে আলু চাষ করে পরপর দুই বছর লোকসানের মুখে পড়েন। তবে এতে দমে যাননি তিনি। প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি নতুন ও লাভজনক ফসল চাষের সম্ভাবনা খুঁজতে থাকেন। আধুনিক কৃষিপদ্ধতি সম্পর্কে জানতে একপর্যায়ে তিনি যোগাযোগ করেন উপজেলা কৃষি অফিসের সঙ্গে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতায় চলতি মৌসুমে এক বিঘা জমিতে অসময়ের তরমুজ চাষ শুরু করেন।
সাফিউলের জমিতে আম্বার সুইট, সূর্য ডিম, সান গোল্ড ও ইয়েলো কিং জাতের তরমুজ চাষ করা হয়। মালচিং পেপার ব্যবহার এবং মাচা পদ্ধতিতে চাষ করায় গাছের পরিচর্যা, রোগ-পোকা দমন ও ফলের গুণগত মান বজায় রাখা সহজ হয়েছে। একই সঙ্গে ফলনকে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব থেকে রক্ষা করতে নেটের ব্যাগ ব্যবহার করেন তিনি।
তরমুজের ফলন আসার পর তা সংগ্রহ ও বাজারজাত করেন সাফিউল। অসময়ের তরমুজ হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও ছিল ভালো। এক বিঘা জমিতে তরমুজ চাষে তার মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার টাকা। বিপরীতে তরমুজ বিক্রি করে তিনি পেয়েছেন প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে তার আয় হয়েছে প্রায় ৭৫ হাজার টাকা।
সাফিউল ইসলাম বলেন, ধান বা আলু চাষের তুলনায় কম সময়ে ও তুলনামূলক কম খরচে লাভজনক কিছু করার চিন্তা থেকেই তরমুজ চাষের উদ্যোগ নিই। কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করায় ভালো ফলন পেয়েছি। বাজারেও ভালো দাম পাওয়ায় আমি সন্তুষ্ট। আগামীতে একই জমিতে আবারও তরমুজ চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষি বিভাগের পরামর্শ, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, মানসম্মত বীজ ও কৃষি উপকরণের সহজলভ্যতা এবং সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা পাওয়া গেলে মোহনপুরে অসময়ের তরমুজ চাষ আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব। এতে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, সাফিউলের উদ্যোগ মোহনপুরে অসময়ের তরমুজ চাষের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। আধুনিক প্রযুক্তি, সঠিক পরিকল্পনা ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে প্রচলিত সময়ের বাইরেও লাভজনক ফসল উৎপাদন করা সম্ভব—তার চাষাবাদ একটি উদাহরণ। তার সাফল্য দেখে অন্য কৃষক ও তরুণ উদ্যোক্তারাও এ ধরনের নতুন ফসল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি উচ্চমূল্যের ও স্বল্পমেয়াদি ফসল চাষ কৃষকের আয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে শিক্ষিত তরুণরা কৃষিকে আধুনিক ব্যবসা হিসেবে গ্রহণ করলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সাফিউলের তরমুজ চাষের সাফল্য তাই শুধু একজন কৃষকের লাভের গল্প নয়; এটি প্রচলিত কৃষির বাইরে গিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর ও বাজারমুখী কৃষির সম্ভাবনারও একটি উদাহরণ। তার উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হয়ে এলাকার আরও কৃষক ও তরুণরা অসময়ের তরমুজসহ নতুন নতুন ফসল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।



