
নওগাঁ সংবাদদাতা: নওগাঁয় জেলা কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে গত রোববার (২৩ আগস্ট)। জেলা কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
নওগাঁ জেলা কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ কমিটির সভাপতি ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, নওগাঁর উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. মনজুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় কমিটির সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। সভাপতি সবাইকে স্বাগত জানিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু করেন।
কমিটির সদস্যদের পরিচিতি পর্ব শেষে সভায় মূল উপস্থাপনা করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, নওগাঁর অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ মো. খলিলুর রহমান। পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে তিনি নওগাঁ জেলায় আগামী রবি ২০২৬-২৭ মৌসুমের কর্মপরিকল্পনা এবং গত খরিফ-১ ও খরিফ-২ মৌসুমের অর্জন তুলে ধরেন। তিনি আমন ধান, গ্রীষ্মকালীন সবজি, পাটসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন পরিস্থিতি তুলে ধরে ফসল উৎপাদনে আধুনিক জাত নির্বাচন, ডাল ও তেলজাতীয় ফসলের আবাদ বৃদ্ধি, সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ, সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা, কৃষক প্রশিক্ষণ, সেচ ব্যবস্থাপনা এবং বাদামি গাছফড়িং দমনে কৃষক সচেতনতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে কমিটির সদস্যদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
আলোচনায় অংশ নিয়ে রাজশাহী সরেজমিন গবেষণা বিভাগের বরেন্দ্র কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হাসান ওয়ালীউল্লাহ বলেন, আগামী রবি মৌসুমে নওগাঁয় ডাল ও তেলজাতীয় ফসলের আবাদ সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। উন্নতমানের বীজ ব্যবহার করে এসব ফসলের ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। তিনি আরও বলেন, নওগাঁর বরেন্দ্র অঞ্চলে অতি ঘন পদ্ধতিতে আম চাষে সাফল্য পাওয়া গেছে। এ সাফল্য ধরে রাখতে সঠিক পরিচর্যা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অব্যাহত রাখার পাশাপাশি কৃষকদের গাছের প্রুনিং এর ব্যাপারে সচেতন করতে কৃষি বিভাগের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
রাজশাহীর আঞ্চলিক কৃষি তথ্য অফিসার কৃষিবিদ মোছা. ফরিদা ইয়াছমিন বলেন, কৃষি তথ্য সার্ভিস কৃষি মন্ত্রণালয়ের ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে কৃষি-সংক্রান্ত তথ্য ও প্রযুক্তি কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কৃষি তথ্য সার্ভিসের মাধ্যমে ‘বাংলার কৃষি’, বেতারে কৃষি অনুষ্ঠান, ‘কৃষিকথা’সহ বিভিন্ন কৃষিবিষয়ক প্রকাশনা ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে কৃষি তথ্য প্রচার ও সম্প্রসারণ করা হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. মো. আজাদুল হক বলেন, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) উদ্ভাবিত ধান, সরিষা ও ডালের উন্নত জাত রয়েছে। এসব জাতের সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষকের উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে।
সভায় অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণে চলমান কার্যক্রম ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন এবং কৃষি উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে কৃষিবিদ মো. মনজুর রহমান বলেন, নওগাঁ জেলা খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। উন্নত জাত ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এ অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব। কৃষির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত সহযোগিতার মাধ্যমে নওগাঁর কৃষিকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালকগণ, বদলগাছি হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ, কৃষি তথ্য সার্ভিসের রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রতিনিধি, বিএডিসি ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের প্রতিনিধিসহ নওগাঁ জেলার বিভিন্ন উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এবং কৃষক প্রতিনিধিসহ মোট ৪৫ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।



