
পাবনা সংবাদদাতা: বগুড়া’য় বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) উপকেন্দ্র ঈশ্বরদী, পাবনা’র আয়োজনে বগুড়া অঞ্চলের উপযোগী বিনা উদ্ভাবিত জাত ও প্রযুক্তিসমূহ বিদ্যমান শস্যবিন্যাসে অর্ন্তভুক্তিকরণ শীর্ষক আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩০ আগস্ট ২০২৬ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী, বগুড়া’র সম্মেলন কক্ষে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য অধ্যাপক এ এস এম গোলাম হাফিজ।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, প্রতিনিয়ত আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের সঙ্গে লড়াই করছি। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ফসলের স্বাদ, পুষ্টিগুণ এবং বিভিন্ন জাতের দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদনশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই ফসলের স্বাদ, ফলন এবং এলাকার চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে আরও গবেষণা করা প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে নতুন নতুন ফসলের জাত ও কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে হবে এবং তা কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, বগুড়া অঞ্চলের কৃষি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এ অঞ্চলে উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের সবজি স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য জেলার চাহিদাও মেটাচ্ছে। দেশের কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং শস্যের বহুমুখীকরণ নিশ্চিত করতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণ জরুরি। এ লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে আরও বেশি প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী ও প্রচারণামূলক কার্যক্রম বাড়াতে হবে।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বগুড়া অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুল ওয়াদুদ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পল্লী উন্নয়ন একাডেমি বগুড়া’র মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (গবেষণা) ড. মো. মোকতার হোসেন, বিনা ময়মনসিংহ এর পরিচালক (প্রশাসন ও সাপোর্ট সার্ভিস) ড. মো. লুৎফর রহমান মোল্যা, কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ঈশ্বরদী পাবনা’ র অধ্যক্ষ কৃষিবিদ মো. মতলুবর রহমান ও বিনা ময়মনসিংহ এর সিএসও এবং বিভাগীয় প্রধান (উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগ) ড. ফাহমিনা ইয়াসমীন। প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুহাম্মদ ফেরদৌস ইকবাল এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন বিনার গবেষণা কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক
ড. মো. মাহবুবুল আলম তরফদার। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন অত্র প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ আশিকুর রহমান।
অনুষ্ঠানে মুক্ত আলোচনায় বক্তারা বলেন, বিনার স্বল্পমেয়াদী জাতগুলো অধিক জনপ্রিয়, ফসল সংগ্রহের পর সহজেই অন্য ফসল চাষ করা যায়; ডিলার পর্যায়ে সকল জাতগুলো চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ; নতুন নতুন জাত গুলো একই এলাকায় চাষ করা যাতে উৎপাদিত ফসলগুলো সম্প্রসারণ ও বিক্রয়ে সুবিধা হয়; জাত ও প্রযুক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশনা, ডকুমেন্টারী আকারে সম্প্রচার; জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিভিন্ন প্রতিকূলতা সহনশীল এবং এলাকার চাহিদা বিবেচনায় জাত উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণ, উচ্চ ফসলশীল জাত ও আধুনিক প্রযুক্তিগুলো দ্রুত কৃষকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার প্রতি আহ্বান জানান।
কর্মশালায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, কৃষি বিজ্ঞানী, এনজিও কর্মী, কৃষক, বীজ ও সার ডিলার প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সাংবাদিকবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।



