
বাকৃবি সংবাদদাতা: বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) নতুন মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশিষ্ট মৎস্যবিজ্ঞানী ড. মো. লতিফুল ইসলাম। এর আগে তিনি একই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) হিসেবে চলতি দায়িত্ব পালন করছিলেন। দীর্ঘ প্রায় তিন দশকের গবেষণা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং উপকূলীয় মৎস্য ও কাঁকড়া চাষ প্রযুক্তি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মৎস্য-৫ শাখা থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব নাসরিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, ময়মনসিংহের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) ড. মো. লতিফুল ইসলামকে একই প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
ড. লতিফুল ইসলাম বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) থেকে মৎস্যবিজ্ঞানে স্নাতক এবং মৎস্য সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) বৃত্তি নিয়ে মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি সাইন্স মালয়েশিয়া (Universiti Sains Malaysia) থেকে মেরিকালচার (Mariculture) বিষয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেন।
১৯৯৮ সালে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। কর্মজীবনের শুরু থেকেই উপকূলীয় জলজ চাষাবাদ, ম্যানগ্রোভ ও মোহনা পরিবেশ, মাছের প্রজনন প্রযুক্তি, জলবায়ু সহনশীল মৎস্যচাষ এবং কাঁকড়া উৎপাদন প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। বিশেষ করে কাদা কাঁকড়া (Mud Crab) কৃত্রিম প্রজনন ও লার্ভা উৎপাদন প্রযুক্তি উন্নয়নে তিনি দেশের অগ্রগণ্য গবেষকদের একজন হিসেবে পরিচিত। তার গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশে কাঁকড়ার বাণিজ্যিক বীজ উৎপাদন প্রযুক্তি উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
গবেষণা জীবনে তিনি ৫০টিরও বেশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া উপকূলীয় জলজ চাষ, বায়োফ্লক প্রযুক্তি, জলবায়ু-স্মার্ট অ্যাকুয়াকালচার এবং চিংড়ি-কাঁকড়া উৎপাদন প্রযুক্তি উন্নয়নে বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্পের নেতৃত্ব দিয়েছেন। খুলনার পাইকগাছা ব্র্যাকিশওয়াটার স্টেশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার নেতৃত্বে গবেষণা কার্যক্রমের মানোন্নয়ন এবং প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক কর্মসম্পাদন মূল্যায়নে (এপিএ) ধারাবাহিক সাফল্য অর্জিত হয়।
মৎস্য খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে ড. মো. লতিফুল ইসলামের নেতৃত্বে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। বিশেষ করে নিরাপদ মৎস্য উৎপাদন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, উপকূলীয় জলজ সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে তার অভিজ্ঞতা দেশের মৎস্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



