
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি খাত- কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য-এই সমন্বিত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে আজ টেকনোক্রেট কোটায় মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন আমিন উর রশিদ ইয়াছিন। তাঁর এই নিয়োগকে তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। সংবিধান অনুযায়ী শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার জন্য পরিচিত আমিন উর রশিদ ইয়াছিন জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখে এসেছেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি দলীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও তিনি সক্রিয় ছিলেন।
কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য—এই তিনটি খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং প্রান্তিক কৃষক-খামারিদের সহায়তা জোরদার—এসব চ্যালেঞ্জ এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, টেকনোক্রেট কোটায় তাঁর অন্তর্ভুক্তি প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদার ও বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। মাঠপর্যায়ে কার্যক্রমের গতি বাড়ানো, খাদ্য মজুদ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং উৎপাদকদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করাই হবে তাঁর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
নতুন দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে আমিন উর রশিদ ইয়াছিন এখন দেশের কৃষি ও খাদ্য নীতির অন্যতম নীতিনির্ধারক। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা—তাঁর নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে গতিশীলতা বাড়বে এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সূচিত হবে।



