
মো. দেলোয়ার হোসেন (টিপি) : রাজশাহীতে মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসে করণীয় নির্ধারণে এক আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ ২০২৬) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালকের হলরুমে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-এর হর্টিকালচার উইংয়ের পরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. হযরত আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির রাজশাহী অঞ্চলের আঞ্চলিক বীজ প্রত্যয়ন অফিসার কৃষিবিদ ড. মো. মোতালেব হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. ইয়াছিন আলী এবং ‘মাশরুম চাষ সম্প্রসরণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণ’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ ড. মোছা. আকতার জাহান কাঁকন। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. আজিজুর রহমান।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক ড. মোছা. আকতার জাহান কাঁকন। তিনি বলেন, মাশরুম একটি হালাল ও পুষ্টিকর সবজি, যা দিয়ে সুস্বাদু ও বৈচিত্র্যময় খাবার তৈরি করা যায়। এতে উচ্চমাত্রার প্রোটিন, খনিজ উপাদান, ফাইবার এবং ভিটামিন বি ও ডি বিদ্যমান। তিনি জানান, মাশরুম দীর্ঘদিন ধরে ঔষধিগুণসম্পন্ন খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পরিকল্পিতভাবে মাশরুম চাষ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব। তিনি উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের মাশরুম চাষ ও ভোক্তা পর্যায়ে এর ব্যবহার বাড়াতে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মো. হযরত আলী বলেন, বর্তমান সময়ে কার্বোহাইড্রেট নিয়ন্ত্রণ ও প্রোটিনের চাহিদা পূরণে মাশরুম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এটি স্বল্প ক্যালোরিযুক্ত ও পুষ্টিসমৃদ্ধ হওয়ায় ওজন ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক। তিনি আরও বলেন, সহজ ও স্বল্প ব্যয়ে মাশরুম চাষ করা যায়, যা বেকার যুবকদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রদত্ত প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা কাজে লাগিয়ে মাশরুম উৎপাদন ও বিপণন জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কৃষকের পাশে থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের নির্দেশনা দেন।
সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে ড. মো. আজিজুর রহমান বলেন, মাশরুম একটি সম্ভাবনাময় পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য। সঠিক পরিকল্পনা ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমের মাধ্যমে এটি গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি মাশরুম চাষ ও ব্যবহারের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
কর্মশালায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর-সংস্থার প্রতিনিধি, মাশরুম চাষি ও সাংবাদিকসহ প্রায় ১৫০ জন অংশগ্রহণ করেন।



