
আহমেদ আলী (পাবনা) : কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চরসাদী ইউনিয়নের চাঁদের হাট এলাকায় কৃষক সংগঠন পর্যায়ে অবহিতকরণ, পরিকল্পনা প্রণয়ন ও মূল্যায়ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে যশোর অঞ্চলে বাস্তবায়নাধীন টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকাল ১১টায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ ড. মোঃ শওকত হোসেন ভূঁইয়া, উপপরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি, কুষ্টিয়া।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, নদীর অববাহিকায় জেগে ওঠা চরাঞ্চলের মাটিতে বালির পরিমাণ বেশি থাকায় সেখানে প্রচলিত ফসল আবাদে অতিরিক্ত সেচের প্রয়োজন হয়। এ কারণে কম সেচে বেলে মাটিতে ভালো ফলন দেয়—এমন ফসল চাষে কৃষকদের এগিয়ে আসতে হবে। তিনি উচ্চমূল্যের ফসল হিসেবে তরমুজ, কলা, পেঁপে, টমেটো, হলুদ, চিনাবাদাম, গম ও ভুট্টা চাষের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন এবং বলেন, পরিকল্পিত আবাদ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে চরাঞ্চলেও অধিক মুনাফা অর্জন সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, বসতবাড়িতে ভার্মি কম্পোস্ট ও ট্রাইকো কম্পোস্ট উৎপাদন করে চরের বেলে মাটিতে প্রয়োগ করলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পাবে এবং ভালো ফলন পাওয়া যাবে। পাশাপাশি বস্তায় আদা ও মরিচ চাষ এবং মাশরুম চাষের পদ্ধতি ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কেও তিনি বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষিবিদ মোঃ রাইসুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি অফিসার, কুমারখালী, কুষ্টিয়া। সঞ্চালনা করেন কৃষিবিদ মোঃ কাওসার আলী, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, কুমারখালী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কুষ্টিয়া-এর অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান এবং অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) কৃষিবিদ মোঃ মহাসীন আলী।
এ সময় চরসাদী ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষি উদ্যোক্তা, রাসায়নিক সার ডিলার, কৃষি তথ্য সার্ভিস পাবনার প্রতিনিধি এবং উপজেলার চরসাদী ইউনিয়নের ১২০ জন প্রগতিশীল কৃষক-কৃষাণী উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালার মুক্ত আলোচনায় কৃষকরা সারের সংকট, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং চরের উপযোগী ফসল নির্বাচনসহ বিভিন্ন বাস্তব সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
কর্মশালা শেষে অতিথিবৃন্দ আশ্রয়ণ প্রকল্পের কৃষাণ-কৃষাণীদের মাঝে উন্নত জাতের সবজির বীজ ও চারা বিতরণ করেন। পরে তারা কালোজিরা আবাদি মাঠ পরিদর্শন করেন।



