
মো. গোলাম আরিফ (পাবনা) : বাজারে বালাইনাশকের মান নিয়ন্ত্রণ, নকল ও ভেজাল বালাইনাশক প্রতিরোধ এবং এর নিরাপদ ও বিজ্ঞানসম্মত ব্যবহার নিশ্চিত করতে সিরাজগঞ্জে জেলা বালাইনাশক ভিজিল্যান্স কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিরাজগঞ্জের খামারবাড়িস্থ প্রশিক্ষণ হলে এ সভার আয়োজন করা হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিরাজগঞ্জের উপপরিচালক কৃষিবিদ এ. কে. এম. মনজুরে মাওলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিবিদ এ. কে. এম. মনজুরে মাওলা বলেন, বালাইনাশক ভিজিল্যান্স কমিটির প্রধান উদ্দেশ্য হলো বাজারে বালাইনাশকের মান নিয়ন্ত্রণ, নকল ও ভেজাল পণ্য প্রতিরোধ এবং এর নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করা। দেশে বিপুলসংখ্যক বালাইনাশক প্রস্তুত ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে অনুমোদনহীন, নকল, ভেজাল ও ক্ষতিকর বালাইনাশক বাজারজাতের অভিযোগ পাওয়া গেলে নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে সেগুলো শনাক্ত ও ধ্বংস করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে বিধি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বাজারে থাকা বালাইনাশকের মান যাচাই এবং ক্ষতিকর, নকল বা অননুমোদিত বালাইনাশকের ব্যবসা প্রতিরোধ করা ভিজিল্যান্স কমিটির প্রতিটি সদস্যের দায়িত্ব। ভেজাল বালাইনাশক ও অসাধু ব্যবসায়িক কার্যক্রম কৃষকসহ কৃষি খাতের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই কৃষকরা যাতে কোনোভাবেই নিম্নমানের বা ভেজাল বালাইনাশক কিনে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়ে জেলা ভিজিল্যান্স টিম জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে।
তিনি আরও বলেন, বালাইনাশক ডিলার ও কোম্পানির প্রতিনিধিদের ব্যবসায়িক সততা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে কৃষকদের মধ্যে বালাইনাশকের নিরাপদ, সঠিক ও বিজ্ঞানসম্মত ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে। এর মাধ্যমে কৃষক ও ভোক্তার স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি মাটি, পানি ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা করা সম্ভব হবে। ফলে টেকসই কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করার পথ আরও সুগম হবে।
সভায় বক্তব্য দেন জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসার কৃষিবিদ মুহম্মদ আরশেদ আলী চৌধুরী, সিনিয়র উদ্যানতত্ত্ববিদ কৃষিবিদ মো. শহিদুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ মোহাম্মদ রেজাউল হক, অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) কৃষিবিদ জেরিন আহমেদ এবং অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) কৃষিবিদ মো. আনোয়ার সাদাত।
বক্তারা বালাইনাশক আইন, ২০১৮-এর যথাযথ প্রয়োগ, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া ও তদারকি, বাজারে নতুন বালাইনাশক আসার পর এর কার্যকারিতা ও নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। একই সঙ্গে বালাইনাশক বিক্রির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ মো. সাইদী রহমানের সঞ্চালনায় সভায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিরাজগঞ্জের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা, বালাইনাশক ডিলারদের প্রতিনিধি এবং জেলায় কর্মরত দেশি-বিদেশি স্বনামধন্য বালাইনাশক প্রস্তুত ও বিপণনকারী ৬০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।



