
মোছা. সুমনা আক্তারী (রাজশাহী) : সুস্থ, সচেতন ও পুষ্টিসমৃদ্ধ সমাজ গঠনের লক্ষ্যে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় শিক্ষক, কৃষক ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে তিন দিনব্যাপী স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (বারটান) আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্যোগে গত ১ থেকে ৩ নভেম্বর এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
প্রশিক্ষণে শিক্ষক, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও কৃষকসহ মোট ৬০ জন অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণের বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করেন নাটোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, গুরুদাসপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা এবং বারটানের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এম এ মজিদ মন্ডল ও সহকারী বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মশিউর রহমান। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম মনিটরিং ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন বারটানের নির্বাহী পরিচালক।
প্রশিক্ষণে বিভিন্ন বয়সী মানুষের পুষ্টিচাহিদা, সুষম ও বৈচিত্র্যময় খাদ্য গ্রহণ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিচর্যা, স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন এবং শিশুদের যথাযথ যত্ন ও পুষ্টি নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ও সহজলভ্য খাদ্যদ্রব্যের পুষ্টিগুণ এবং সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
প্রশিক্ষণের বিভিন্ন সেশনে বক্তারা বলেন, সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সুষম ও বৈচিত্র্যময় খাবার গ্রহণের পাশাপাশি বয়স, শারীরিক অবস্থা ও পুষ্টিচাহিদা অনুযায়ী খাদ্য নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সঠিক পুষ্টির পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, স্বাস্থ্য ও পুষ্টিবিষয়ক সচেতনতা তৈরিতে শিক্ষক ও কৃষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে এবং কৃষকরা নিজেদের পরিবার ও স্থানীয় সমাজে নিরাপদ খাদ্য, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে পারেন। এ ধরনের উদ্যোগ তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা খাদ্য ও পুষ্টি, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিচর্যা এবং শিশুদের সঠিক বৃদ্ধি ও বিকাশসহ স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন করেন। প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান নিজ নিজ পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কৃষকসমাজে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধিতে অংশগ্রহণকারীরা ভূমিকা রাখবেন বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন।

