
মো. গোলাম আরিফ (পাবনা) : পাবনায় “বিনা উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল ও জনপ্রিয় তেল জাতীয় ফসলের জাত সমূহের পরিচিত, চাষাবাদ পদ্ধতি, বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ” বিষয়ক কৃষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯ অক্টোবর ২০২৬ বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) উপকেন্দ্র, ঈশ্বরদী’র উদ্যোগে কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, ঈশ্বরদী, পাবনা’র সম্মেলন কক্ষে দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয়।
বিনা উপকেন্দ্র ঈশ্বরদী’র প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. ফেরদৌস ইকবালের সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ক্লামেইট অ্যান্ড নেচারাল রিসোর্সেস, কেজিএফ এর সিনিয়র স্পেশালিস্ট ড. মো. মনোয়ার করিম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিনার গবেষণা কার্যক্রম শক্তিশালী প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মাহবুবুল আলম তরফদার, কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, ঈশ্বরদী’র উপাধ্যক্ষ ড. রবীআহ নূর আহমেদ, তেল ফসল উৎপাদন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. রেজা ডক্টর মোহাম্মদ ইমন। এছাড়াও ড. মাহাবুবুর রহমান খান, ড. সাদিয়া তাসনিম, ড. সাইয়েরা চৌধুরী, ড. রিমা আশরাফী, মাহবুব, আলিফসহ অন্যান্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় অতিথিবৃন্দ তাঁদের বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতিতে তেলজাতীয় ফসলের গুরুত্ব অপরিসীম। সরিষা, তিল, চিনাবাদাম, সূর্যমুখী ও সয়াবিন দেশের অন্যতম প্রধান তেলজাতীয় ফসল। এসব ফসল থেকে ভোজ্যতেল উৎপাদনের পাশাপাশি প্রাপ্ত খৈল ও অন্যান্য উপজাত পশুখাদ্য ও জৈবসার হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দেশের ক্রমবর্ধমান ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণ, আমদানিনির্ভরতা হ্রাস এবং কৃষকের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে তেলজাতীয় ফসলের আবাদ সম্প্রসারণ ও উচ্চ ফলনশীল জাতের ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি।
তাঁরা আরও বলেন, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল ও উন্নত জাতগুলো দেশের তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। এসব জাতের স্বল্প জীবনকাল, অধিক ফলনক্ষমতা, রোগবালাই সহনশীলতা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা কৃষকদের জন্য বিশেষভাবে সহায়ক। তবে এসব জাতের কাঙ্ক্ষিত ফলন অর্জনে উপযুক্ত জাত নির্বাচন, আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণ, মানসম্মত বীজ উৎপাদন এবং বীজের সঠিক সংরক্ষণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বিনা উদ্ভাবিত উন্নত জাত ও আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির যথাযথ সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশে তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, ভোজ্যতেলের আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং কৃষি অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে।
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিনা উদ্ভাবিত উন্নত জাতসমুহের আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা, ফসলের অবশিষ্টাংশ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ হ্রাস, মাটির স্বাস্থ্য উন্নয়ন ও ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ কমানো এবং ফসলের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সেশন পরিচালনা করা হয়।

