
মো. গোলাম আরিফ (পাবনা) : পাবনায় বগুড়া কৃষি অঞ্চলের টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কৃষক-কৃষাণীদের জন্য তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং কৃষি সম্পদের টেকসই ব্যবহারের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকের কার্যালয়, পাবনার খামারবাড়িস্থ প্রশিক্ষণ হলে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ মো. আব্দুল ওয়াদুদ, অতিরিক্ত পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বগুড়া অঞ্চল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, টেকসই কৃষি উন্নয়ন এমন একটি কৃষি ব্যবস্থা, যা বর্তমান প্রজন্মের খাদ্য চাহিদা পূরণের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কৃষি সম্পদ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখে। মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি, পানির দক্ষ ব্যবহার এবং ক্ষতিকর রাসায়নিকের বিকল্প হিসেবে জৈব সার ও পরিবেশবান্ধব বালাইনাশকের ব্যবহার টেকসই কৃষি ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে অনেক সময় প্রয়োজনের অতিরিক্ত রাসায়নিক সার, বীজ, পানি ও বালাইনাশক ব্যবহার করা হয়। এতে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি উৎপাদিত খাদ্য মানবস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, দীর্ঘস্থায়ী রোগ প্রতিরোধ এবং দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
কৃষিবিদ মো. আব্দুল ওয়াদুদ ফসল উৎপাদনে বীজের শ্রেণিবিন্যাস, উন্নতমানের বীজের বৈশিষ্ট্য, বীজ সংরক্ষণ পদ্ধতি, সেচ ব্যবস্থাপনা, বালাইনাশকের পরিমিত ব্যবহার এবং সুষম সার প্রয়োগের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান বাস্তবক্ষেত্রে প্রয়োগ করে দেশের কৃষিকে আরও সমৃদ্ধ করতে অংশগ্রহণকারী কৃষক-কৃষাণীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণিক, উপপরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, পাবনা। কৃষিবিদ মো. রাফিউল ইসলাম, অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য)-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) কৃষিবিদ মো. নুরে আলম।
তিন দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে পাবনা জেলার বিভিন্ন উপজেলার কৃষক-কৃষাণীরা অংশগ্রহণ করছেন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আধুনিক ও টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।



