
মো. গোলাম আরিফ (পাবনা) : সুস্থ, কর্মক্ষম ও পুষ্টিসমৃদ্ধ জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে খাদ্যভিত্তিক পুষ্টি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বারটান আঞ্চলিক কার্যালয় সিরাজগঞ্জের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী খাদ্যভিত্তিক পুষ্টি বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অংশগ্রহণে ২৮-৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (বারটান) সিরাজগঞ্জের প্রশিক্ষণ কক্ষে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সিরাজগঞ্জ মোঃ আমিনুল ইসলাম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক বলেন, একটি দেশের মানুষের সুস্বাস্থ্য শুধু চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে না বরং নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং পর্যাপ্ত ও সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যভিত্তিক পুষ্টি সম্পর্কে জনগণের জ্ঞান ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে অপুষ্টি, অতিপুষ্টি এবং খাদ্যাভ্যাসজনিত বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।
বারটান আঞ্চলিক প্রধান ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এম এ মজিদ মন্ডল এর সভাপতিত্বে উপপরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর; অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক); সিভিল সার্জন; জেলা মৎস্য কর্মকর্তা; প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা; সিনিয়র উদ্যানতত্ত্ববিদসহ সংশ্লিষ্ট অন্যন্য প্রশিক্ষকবৃন্দ পৃথক পৃথক সেশন পরিচালনা করেন।
তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও উদ্যানতত্ত্বের সঙ্গে পুষ্টির সম্পর্ক; নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নির্বাচন এবং উৎপাদন; খাদ্যের পুষ্টিমান; প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের গুরুত্ব; ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের প্রয়োজনীয়তা; সুষম খাদ্য পরিকল্পনা; খাদ্য ও পুষ্টির সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের সম্পর্ক এবং পরিবারের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় স্থানীয় ও সহজলভ্য পুষ্টিকর খাবারের ব্যবহারসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়।
এছাড়াও প্রশিক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় ‘খাদ্য থেকেই পুষ্টি’ ধারণার ওপর। প্রশিক্ষকবৃন্দ বলেন, আমাদের চারপাশে সহজলভ্য অনেক খাদ্য রয়েছে যেগুলো সঠিকভাবে নির্বাচন ও সমন্বয় করে গ্রহণ করলে পরিবারের পুষ্টি চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করা সম্ভব। শুধু পুষ্টিকর খাদ্য মানেই যে ব্যয়বহুল খাদ্য, এই ধারণা পরিবর্তনের জন্য জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শুধু অংশগ্রহণকারীদের খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান বৃদ্ধির ধারণা দেওয়া হয়। এগুলোকে পরিবারের অন্যান্য সদস্য, প্রতিবেশী, মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষের কাছে সঠিক পুষ্টিবার্তা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে শিশু, কিশোর-কিশোরী, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মা এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের পুষ্টি চাহিদা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।



