
নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): পটুয়াখালীতে এসএসিপি প্রকল্পে বিএডিসির সফলতা, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) শহরের কোডাক লার্নিং সেন্টারে স্মলহোল্ডার এগ্রিকালচারাল কম্পিটিটিভনেস (এসএসিপি) প্রজেক্টের উদ্যোগে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন এসএসিপি প্রকল্পের ড্যাম অংগের কম্পোনেন্ট ডিরেক্টর (উপসচিব) ড. মোহাম্মদ রাজু আহম্মেদ। সভাপতিত্ব করেন বিএডিসি অংগের কম্পোনেন্ট ডিরেক্টর মো. রেজাউর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বারি অংগের কম্পোনেন্ট কো-অর্ডিনেটর ড. পরিমল চন্দ্র সরকার, বিএডিসি বরিশালের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সেচ) চঞ্চল কুমার মিস্ত্রী এবং বিএডিসির যুগ্ম পরিচালক (বীজ বিপণন) মো. আসাদুজ্জামান।
বিএডিসি পটুয়াখালীর সহকারী প্রকৌশলী মো. ইয়াকুব আলীর সঞ্চলনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আঞ্চলিক উদ্যানতত্ব গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলীমুর রহমান, দশমিনার বীজবর্ধক খামারের উপপরিচালক মো. ইকবাল আহমেদ, ডিএই বরগুনার অতিরিক্ত উপপরিচালক সি এম রেজাউল করিম, আমতলীর উপজেলা কৃাষি অফিসার মো. রাসেল, মির্জাগঞ্জের উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন, বাঙ্গাবালীর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আসাদুজ্জামান, বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী আতাই রাব্বি বীজ উৎপাদনকারী কৃষক আ. মান্নান প্রমুখ। সেমিনারে বিএডিসি, ডিএই, বারি, ড্যাম ও কৃষি তথ্য সার্ভিসের কর্মকর্তা এবং কৃষক মিলে ৫০ জন অংশগ্রহণ করেন।
সেমিনারে প্রধান অতিথি বলেন, যেকোনো প্রকল্পের সফলতার পাশাপাশি কিছু ব্যর্থতাও থাকে। তবে কেনো এমন হলো, তা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করলে পেছনের সমস্যা পরবর্তীতে আর হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। তিনি আরো বলেন, পানির অভাবে দক্ষিণাঞ্চলের কিছু কিছু জমিতে রবি মৌসমে ফসল হত না, সেখানে খাল পুনঃখননের পর কৃষকরা এখন চাষাবাদ করছেন। তাই সেচের পাপ্যতা বাড়াতে পারলে এ অঞ্চলে শস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। একই সাথে হবে কৃষকের জীবনমানের উন্নয়ন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) ৩টি উইং। তা হলো- বীজ ও উদ্যান, সেচ ও সার ব্যবস্থাপনা। এ প্রকল্পের আওতায় দেশের ৩০ টির উপজেলার মধ্যে বরিশাল বিভাগের রয়েছে ১৪ টি। আগে এ অঞ্চলে আবাদযোগ্য জমির শতকরা ১৮ ভাগ সেচের আওতায় ছিল। প্রকল্পের মাধ্যমে এখন তা বেড়ে শতকরা ২৮ ভাগে উন্নীত হয়েছে। গত ১০ বছরের বিএডিসির সেচ ব্যবস্থায় মাধ্যমে ৩৭ হাজার ৪ শ’ ৫৫ হেক্টর জমি চাষের আওতায় এসেছে। কেবল খাল খনন এবং পুনঃখনন মাধ্যমে ৭ হাজার ২ শ’ ৩৯ হে জমি সেচের আওতায় এসেছে। এর ফলে উৎপাদিত খাদ্যশস্যে যোগ হয়েছে ৩২ হাজার টন প্রায়।



