
মো. দলোয়ার হোসেন (টিপি): নওগাঁ জেলা কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ কমিটির সভা গত (১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জেলা কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, নওগাঁয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ কমিটির সভাপতি ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, নওগাঁ-এর উপপরিচালক কৃষিবিদ মোছা: হোমায়রা মন্ডল। সভাপতির স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু হয়।
কমিটির সদস্যদের পরিচিতি পর্ব শেষে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, নওগাঁ-এর অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ মো. খলিলুর রহমান। তিনি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে জেলার রবি মৌসুমের অর্জন এবং আসন্ন খরিপ-১ মৌসুমে গৃহীত কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। এ সময় তিনি বোরো ধান রোপণ, সবজি, সরিষা, ডাল, তেলবীজ ও ভুট্টা চাষ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি জানান, এসব ফসলের সফল উৎপাদনের জন্য আধুনিক ও উন্নত জাত নির্বাচন, আউশ ধান চাষে উদ্বুদ্ধকরণ, সুষম সার ব্যবস্থাপনা, সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (আইপিএম), কৃষক প্রশিক্ষণ, কার্যকর সেচ ব্যবস্থাপনা এবং বাদামী গাছফড়িং দমনে কৃষক সচেতনতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে কমিটির সদস্যদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
আলোচনা পর্বে বিএডিসি রাজশাহীর উপপরিচালক কৃষিবিদ কেএম গোলাম সরওয়ার বলেন, বোরো ধানের বীজের কোনো ঘাটতি নেই এবং মানসম্মত বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব। পাশাপাশি বোরো ও আউশ মৌসুমের জন্য সারের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নওগাঁ জেলায় বিপুল পরিমাণ ফলের বাগান রয়েছে, যার প্রায় ৯০ শতাংশই আম বাগান। উন্নত জাতের আম গাছ রোপণ ও নিরাপদ আম উৎপাদনের মাধ্যমে বিদেশে রপ্তানির যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ফল গবেষণা কেন্দ্র সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
কৃষি তথ্য সার্ভিস, রাজশাহীর আঞ্চলিক কৃষি তথ্য অফিসার কৃষিবিদ মোছা: ফরিদা ইয়াছমিন জানান, কৃষি তথ্য সার্ভিস মূলত গণমাধ্যমভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। এর আওতায় ‘বাংলার কৃষি’, ‘বেতারে কৃষি’ অনুষ্ঠান প্রচার, ‘কৃষিকথা’ প্রকাশনা এবং কৃষিভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শাহ মোস্তাক আহাম্মদ চৌধুরী বলেন, পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র উদ্ভাবিত বিনা জাতের ধান, সরিষা ও ডালের উন্নত জাত কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সভায় অন্যান্য দপ্তরের প্রতিনিধিরাও নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে মোছা: হোমায়রা মন্ডল বলেন, নওগাঁ জেলা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। উন্নত জাত ও আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব। কৃষি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বিত সহযোগিতায় নওগাঁর কৃষিকে আরও এগিয়ে নেওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভায় অতিরিক্ত উপপরিচালকবৃন্দ, রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বিএডিসি রাজশাহীর উপপরিচালক, বদলগাছি হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ, কৃষি তথ্য সার্ভিসের আঞ্চলিক কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এবং কৃষক প্রতিনিধিসহ প্রায় ৪০ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে সভাপতি সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।



