
নিজস্ব প্রতিবেদক: বৈশ্বিক বাজারে নিরাপদ পোল্ট্রি পণ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদা, খাদ্য নিরাপত্তা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং টেকসই উৎপাদনব্যবস্থার গুরুত্ব বিবেচনায় বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয়েছে ‘১৪তম আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি শো ও সেমিনার-২০২৭’-এর আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি।
এ উপলক্ষে আজ সোমবার (২ নভেম্বর) রাজধানীর ওয়ার্ল্ড’স পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখার (WPSA-BB) কার্যালয়ে পোল্ট্রি ও কৃষিভিত্তিক সাংবাদিকদের নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে আয়োজকরা আসন্ন আন্তর্জাতিক আয়োজনের বিভিন্ন প্রস্তুতি, কর্মসূচি ও বিশেষ আকর্ষণের তথ্য তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন WPSA-BB-এর প্রেসিডেন্ট শামসুল আরেফিন খালেদ, জেনারেল সেক্রেটারি মোহাম্মদ ফয়জুর রহমান, ১৪তম আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি শো অ্যান্ড সেমিনার-২০২৭-এর মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট কমিটির আহ্বায়ক ড. শামীম আহমেদ ও সদস্যসচিব মো. জাকারিয়া ইসলাম। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ভেন্যু ম্যানেজমেন্ট কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন, BPICC-এর মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর সাবরিনা নওরিন লিমু এবং মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট কমিটির অন্যান্য সদস্য।
আগামী ১৬ থেকে ২০ মার্চ ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য এ আয়োজনের যৌথ উদ্যোগে রয়েছে ওয়ার্ল্ড’স পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখা (WPSA-BB) এবং বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (BPICC)। আয়োজকদের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১৬ ও ১৭ মার্চ রাজধানীর লে মেরিডিয়ান হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কারিগরি সেমিনার। এরপর ১৮ থেকে ২০ মার্চ পূর্বাচলের ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (ICCB) অনুষ্ঠিত হবে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি শো।
দেশের পোল্ট্রি শিল্পের অন্যতম বৃহৎ এ আন্তর্জাতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানী, গবেষক, উদ্যোক্তা, নীতিনির্ধারক ও প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের মধ্যে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও ব্যবসায়িক যোগাযোগের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
এবারের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘Safe Poultry for Global Markets’ (বৈশ্বিক বাজারের জন্য নিরাপদ পোল্ট্রি)। বৈশ্বিক খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থায় ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অর্জনের বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে বায়োসিকিউরিটি, রোগ প্রতিরোধ, নিরাপদ উৎপাদন, আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং টেকসই মূল্যশৃঙ্খল উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ব্যবস্থা থাকছে।
আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খ্যাতনামা বিজ্ঞানী, গবেষক, পোল্ট্রি বিশেষজ্ঞ, উদ্যোক্তা, নীতিনির্ধারক ও প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা। দুই দিনব্যাপী সেমিনারে সময়োপযোগী বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক অধিবেশনের মাধ্যমে পোল্ট্রি শিল্পের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের উপায় তুলে ধরা হবে। এতে গবেষক, উদ্যোক্তা, খামারি ও শিল্পসংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি খাতটির ভবিষ্যৎ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পাবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তিন দিনব্যাপী প্রদর্শনীতে দেশি-বিদেশি শীর্ষস্থানীয় পোল্ট্রি, ফিড, অ্যানিমেল হেলথ ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে আধুনিক পণ্য, সেবা ও উৎপাদনপ্রযুক্তি তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি পোল্ট্রি পণ্যের পুষ্টিগুণ ও বহুমুখী ব্যবহার সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে থাকছে রান্নার প্রতিযোগিতা। গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির আবহে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মিউজিক্যাল প্রোগ্রাম এবং বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী ও সমাপনী আয়োজনও থাকছে। এ ছাড়া উদ্যোক্তা, নীতিনির্ধারক ও শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদারে উচ্চপর্যায়ের কারিগরি অধিবেশন এবং বিজনেস টু বিজনেস (B2B) নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগ তৈরি করা হবে।
এবারের আয়োজনের অন্যতম নতুনত্ব হচ্ছে প্রদর্শনী এলাকাকে বিষয়ভিত্তিক কয়েকটি বিশেষ জোনে বিন্যস্ত করা। এর মধ্যে থাকছে Export Zone, Sustainability Zone এবং Safe Food Zone। এসব জোনে পোল্ট্রি পণ্যের রপ্তানি সম্ভাবনা, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উৎপাদনব্যবস্থা এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্যোগ তুলে ধরা হবে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, বিষয়ভিত্তিক এ প্রদর্শনী দর্শনার্থী ও ব্যবসায়ীদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা লাভ এবং নতুন ব্যবসায়িক যোগাযোগ তৈরিকে আরও সহজ করবে।
আয়োজকরা জানান, এবারের শো ও সেমিনারকে আগের আয়োজনগুলোর তুলনায় আরও বৈচিত্র্যময় ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গবেষণাভিত্তিক আলোচনা, প্রযুক্তির প্রদর্শন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং রপ্তানিমুখী শিল্পায়নের বিষয়গুলোকে সমন্বিতভাবে উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে দেশের পোল্ট্রি শিল্পের সঙ্গে বৈশ্বিক বাজার ও প্রযুক্তি খাতের সংশ্লিষ্টদের যোগাযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক আয়োজনটির গুরুত্ব বাড়াতে গ্লোবাল ওয়ার্ল্ড’স পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশনের (WPSA) প্রেসিডেন্ট ডা. ব্রুস রাথগেবার (Dr. Bruce Rathgeber) অংশগ্রহণ করবেন বলে প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা। পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে প্রধান অতিথি হিসেবে পাওয়ার আশাও ব্যক্ত করেছেন তারা।
এবারের সেমিনারে মানসম্মত গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশের বিজ্ঞানী, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের গবেষণা প্রবন্ধ জমা দেওয়ার আহ্বানে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সাড়া পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক গবেষণা প্রবন্ধ জমা পড়েছে, যা সেমিনারের বিষয়বৈচিত্র্য ও গবেষণাভিত্তিক আলোচনার মান সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের পোল্ট্রি উৎপাদনকারী, ফিড প্রস্তুতকারক, ওষুধ ও ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি সরবরাহকারী এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
গত তিন দশকে বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্প দেশের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাতে পরিণত হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ এবং মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে এ খাতের অবদান উল্লেখযোগ্য। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অর্জন এবং রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে নিরাপদ উৎপাদন, মান নিয়ন্ত্রণ, রোগ প্রতিরোধ, আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের ক্ষেত্রে আরও অগ্রগতি প্রয়োজন। এ বাস্তবতায় ১৪তম আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি শো ও সেমিনার-২০২৭ দেশের পোল্ট্রি শিল্পের উদ্যোক্তা ও পেশাজীবীদের জন্য আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি, গবেষণা ও ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি শোতে অংশগ্রহণ, স্টল বুকিং, রেজিস্ট্রেশন ও সেমিনারসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের জন্য আগ্রহীরা আয়োজকদের ওয়েবসাইট https://wpsa-bb.com/ ভিজিট করতে পারবেন। এ ছাড়া প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে থাকা QR কোড স্ক্যান করেও প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যাবে।
আমার লিডটি আরও সংক্ষিপ্ত করুনপুনরাবৃত্ত তথ্যগুলো বাদ দিন

