
নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের বাজারে ডিম ও ব্রয়লার মুরগির দামে সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে খুচরা পর্যায়ে ডিমের দাম কমেছে ৭ দশমিক ৬২ শতাংশ। বর্তমানে প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪৭ থেকে ৫০ টাকা দরে। একই সময়ে ব্রয়লার মুরগির দাম কমেছে ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ; বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়।
দাম কিছুটা কমলেও উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন পোল্ট্রি খাতের প্রতিনিধিরা। তাঁদের মতে, বর্তমানে খামার পর্যায়ে ডিম ও মুরগির উৎপাদনে বড় ধরনের কোনো সংকট নেই। পাশাপাশি খামারে রোগবালাইয়ের উল্লেখযোগ্য প্রকোপ না থাকায় আসন্ন রমজানে বাজারে ডিম ও ব্রয়লার মুরগির সরবরাহেও বড় ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা নেই।
খামার পর্যায়েও ডিমের দাম সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা কমেছে। পোল্ট্রি খাতের প্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কিছুদিন আগে প্রতি পিস ডিমের দাম ছিল প্রায় সাড়ে ১১ টাকা। বর্তমানে তা কমে ১০ টাকার নিচে নেমেছে। অর্থাৎ খামার পর্যায়ের দাম এখন উৎপাদন খরচের কাছাকাছি অবস্থান করছে। এ পরিস্থিতিতে বাজারদর, উৎপাদন ব্যয় ও খামারির টেকসই উৎপাদন—তিনটি বিষয়ই সমন্বিতভাবে বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে।
সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভোজ্যতেল, ডিম, ডাল, ছোলা, খেজুর ও চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সার্বিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্তে ডিম ও ব্রয়লার মুরগির দামের এই চিত্র উঠে আসে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
পোল্ট্রি খাতের প্রতিনিধিরা জানান, বর্তমানে উৎপাদন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় ডিম ও মুরগির সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের কোনো চাপ নেই। খামারে রোগবালাইয়ের উল্লেখযোগ্য প্রকোপ না থাকায় উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। ফলে বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়নি।
রমজানেও ডিমের বাজারে চাহিদার ধরনে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, রমজানে সকালের নাশতার ধরন পরিবর্তিত হওয়ায় ডিমের চাহিদা কিছুটা কমতে পারে। তবে ঈদের পর মুরগির চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে সময় চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য এবং উৎপাদন ব্যয়ের ওপর বাজারদরের গতিপ্রকৃতি নির্ভর করবে।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, বিদ্যমান আমদানি নীতি অনুযায়ী সরকারের বিশেষ অনুমতি ছাড়া ডিম ও মাংস আমদানি করা যায় না। ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন, খামার পর্যায়ের অর্থনীতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ধারাবাহিকতাই বাজার স্থিতিশীল রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে ডিম ও ব্রয়লার মুরগির পাশাপাশি কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও নিম্নমুখী বা স্থিতিশীল প্রবণতা রয়েছে। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে বড় দানার মসুর ডালের দাম কমেছে ২ দশমিক ৫৬ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ দাম কমেছে ৭ দশমিক ৩২ শতাংশ। বর্তমানে প্রতি কেজি বড় দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। মাঝারি দানার মসুর ডালের দামও গত বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৬২ শতাংশ কমেছে।
বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ২০৪ টাকা এবং পাঁচ লিটারের বোতল ১ হাজার টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে। চিনির দাম প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১১৫ টাকা এবং সাধারণ মানের খেজুর মানভেদে ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা, বাজারদর স্থিতিশীল রাখা এবং আমদানি ও শুল্কসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের বিভিন্ন দিক নিয়ে সভায় আলোচনা হয়।

