
ড. এম আব্দুল মোমিন: কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর কৃষির উপর নির্ভরশীলতার কারণে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির তালিকায় বাংলাদেশ উপরের দিকে অবস্থান করছে। আয়তনে ছোট দেশ হলেও বাংলাদেশ ৩০টি কৃষি পরিবেশ অঞ্চলে বিভক্ত। এসব কৃষি পরিবেশ অঞ্চলের রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন আবহাওয়া ও জলবায়ু এমনকি ভূমি-বৈচিত্র্য। কোথাও বন্যা, আবার কোথাও খরা। উপকূলীয় জেলাগুলোতে তীব্র লবণাক্ততা, সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন সমস্যা প্রকট। আবার দক্ষিণপূর্বাঞ্চলে অতিবৃষ্টি, উত্তরাঞ্চলে অনাবৃষ্টি ইত্যাদি চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের কৃষিকে প্রতিনিয়ত মোকাবেলা করতে হচ্ছে। কৃষিতে উৎপাদনশীলতা পুরোপুরি তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, বিকিরণসহ জলবায়ুর উপাদানগুলোর ওপর নির্ভর করে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কথা বিবেচনায় রেখে আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের শস্যের উৎপাদন, নিবিড়তাও উৎপাদশীলতার বৃদ্ধি করা জরুরী। কারণ দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে চালের উৎপাদন প্রবৃদ্ধির হার কিছুটা কম।
গত ৫০ বছরে উৎপাদন ৪ গুণের বেশি বাড়লেও, বর্তমানে জমির পরিমাণ কমে যাওয়া ও জনসংখ্যার ঊর্ধ্বগতির কারণে উৎপাদন প্রবৃদ্ধি হ্রাস পেয়েছে। অথচ বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিস্টিটিউটের (ব্রি) পলিসি গবেষণার প্রজেকশন অনুযায়ী, ২০৩০ সালে বাংলাদেশে ৪ কোটি ৬৯ লাখ টন, ২০৪১ সালে ৫ কোটি ৪১ লাখ টন এবং ২০৫০ সালে ৬ কোটি ৯ লাখ টন চালের প্রযোজন হবে। দীর্ঘমেয়াদে দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জনের লক্ষ্যে কৃষি মন্ত্রলালয় উদ্যোগে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনিস্টটিউট (ব্রি) বাস্তবায়ন করছে ’স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও উন্নয়ন (এলএসটিডি) প্রকল্প ।
এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য দেশের ধান-প্রধান অঞ্চলে নতুন ৬টি আঞ্চলিক কার্যালয় ও ৬টি স্যাটেলাইট অফিস স্থাপন করা এবং তৎসংলগ্ন মোট ১৫টি প্রযুক্তি গ্রাম স্থাপন করা যেখানে ব্রি উদ্ভাবিত জাত-প্রযুক্তির প্রদর্শণী স্থাপন করে কৃষককে উদ্বুদ্ধ করা। এছাড়া ৬টি প্রতিকূল ও অনুকূল পরিবেশ উপযোগী ধানের জাত উদ্ভাবন, ২০টি নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন, ১০০০টি অগ্রগামী ধানের সারি উদ্ভাবন ও উন্নয়ন; ধানের ৩০০টি নতুন জার্মপ্লাজম সংগ্রহ, বৈশিষ্টায়ণ ও সংরক্ষণ এবং ৫০০মে. টন মানসম্পন্ন ধানের বীজ উৎপাদন; প্রযুক্তি গ্রাম এবং আঞ্চলিক কার্যালয়ভিত্তিক ১৫,৩৭৫টি প্রায়োগিক পরীক্ষণের মাধ্যমে ৬,৫০,০০০ জনের অধিক কৃষকের নিকট আধুনিক শস্য ব্যবস্থাপনা, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অভিযোজন কৌশল, সময়মত চাষাবাদ, ফলনোত্তর কার্যক্রম এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ সম্পর্কিত তথ্যসমূহ সরাসরি প্রদর্শন; ৩২৫টি দিনব্যাপী প্রযুক্তি গ্রামকেন্দ্রিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ১৩,০০০জন কৃষক/উদ্যোক্তা এবং ৭৫টি ৫দিন ব্যাপী আধুনিক ধান চাষাবাদ ব্যবস্থাপনার উপর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মাঠ পরযায়ের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান।
প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় জলবায়ু সহনশীল ধানের জাত উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের খাদ্য চাহিদা মেটাতে জলবায়ু, ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যে এবং Agro Ecological Zone (AEZ) কৃষি পরিবেশগত অঞ্চলের উপর নির্ভর করে ৬টি জেলায় ৬টি নতুন আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। দিনাজপুর, সুনামগঞ্জ, খাগড়াছড়ি,টাঙ্গাইল, নেত্রকোনা ও কক্সবাজার জেলায় স্থাপিত এই কার্যালয়গুলোর মূলত মাটির বৈশিষ্ট্য নির্ণয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে । স্থানীয় কৃষকদের চাষাবাদের প্রতিবন্ধকতাসমূহ দূর করার লক্ষ্যে ব্রির বিভিন্ন গবেষণা বিভাগ ও আঞ্চলিক কার্যালয়ের গবেষণালব্ধ ফলাফল নির্দিষ্ট এলাকার জলবায়ু সহনশীল উন্নত ধানের বীজ ও প্রযুক্তি প্রথমে স্যাটেলাইট স্টেশনগুলোতে পাঠানো হয়। এখানে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে, সরেজমিনে কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষিত করা হয়। এই লক্ষ্যে পঞ্চগড় , ময়মনসিংহ, সিলেট, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালী ও খুলনা জেলায় মোট ৬টি স্যাটেলাইট স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে।
ব্রির গবেষণালব্ধ চূড়ান্ত ফলাফল কৃষক পর্যায়ে অভিযোজনের জন্য স্থানভিত্তিক সীমাবদ্ধতা কমিয়ে আনাই প্রযুক্তি গ্রামের লক্ষ্য। এখানে প্রযুক্তির পরীক্ষণ, মূল্যায়ন, উন্নয়ন, সরেজমিনে, হাতে-কলমে কৃষক ও উদ্যোক্তা গোষ্ঠী প্রশিক্ষণ, কৃষি ও শিল্পে প্রযুক্তির ব্যবহার ও সমন্বয় সাধন করে বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। যাতে কৃষক পর্যায়ে সেবা প্রধানকারী কৃষক তৈরি হবে এবং কাঙ্খিত সফলতা আসবে। ফলে দেশ প্রতিনিয়ত বাড়তি জনসংখ্যার খাবারের যোগান দিতে পারবে।
স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন প্রকল্পের মাধ্যমে আবহাওয়া ও মাটির স্থানভিত্তিক গুনাগুন বিবেচনায় অঞ্চলভিত্তিক ধানের জাত এবং প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। যেমন-দিনাজপুর জেলার মাটি উর্বর দোআঁশ, জেলার কিছু অংশে ছোট ছোট টিলা ও উঁচু ভূমি দেখা যায়। এই জেলায় গ্রীষ্মকালে গরম ও আদ্র আবহাওয়া থাকে। শীতকালে মাঝে মাঝে প্রচুর কুয়াশা পড়ে। এখানে সুগন্ধি ধানের জিনের এক্সপ্রেশন (প্রকাশ) যথাযথ ঘটে। ফলে দিনাজপুর অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়ায সুগন্ধি ধান জন্য প্রশিদ্ধ। এই দিকটি বিবেচনা করে এখানে দেশের আবহাওয়া উপযোগী উচ্চফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবনে স্থাপন করা হয়েছে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের একটি আঞ্চলিক অফিস (ফাইন রাইস রিসার্চ ইন্সটিটিউট)। এ অঞ্চলে শীতের তীব্রতা মাত্রাতিরিক্ত হওয়ায় বোরো ধান দেরিতে রোপন করা হয়। আমন মৌসুমে অধিক খরার কারণে সম্পুরক সেচের প্রয়োজন হয়। অন্যথায় আমন ধানের ফলন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখানে ঘাত সহনশীল ধানের জাতের অপ্রতুলতা এবং সুগন্ধি ধানের জাত ব্লাস্ট রোগের সংবেদর্শীল থাকায় প্রায়শই উৎপাদন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উপরোক্ত সমস্যাসমূহ নিরসনের জন্য ঘাত সহনশীল জাত, উন্নত প্রযুক্তি ও সেচ সমস্যা সমাধানের উপায় নিরূপণের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সুগন্ধি ও প্রিমিয়াম জাতের ধান যেমন কাটারিভোগ, বাসমতি, জেসমিনের মত উন্নতমানের ধানের উৎপাদনের জন্য নিবিঢ়ভাবে গবেষণা প্রয়োজনে দিনাজপুরে আঞ্চলিক কার্যালয় ও প্রযুক্তিগ্রাম স্থাপন হয়েছে।
হাওড়বেষ্টিত জেলা সুনামগঞ্জের আবহাওয়া মূলত আর্দ্র ও বৃষ্টিবহুল। শীতকালে তাপমাত্রা বেশ ঠান্ডা থাকে, গ্রীষ্মকালে থাকে গরম ও আর্দ্র । পাহাড়ি ঢল, অধিক বৃষ্টিপাত, জলাবদ্ধতা এই এলাকায় স্বল্প জীবনকাল ও জলাবদ্ধতা সহনশীল ধানের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এই প্রতিবন্ধকতা দূর করার লক্ষ্যে সরেজমিন গবেষণার উদ্দেশ্যে এখানে আঞ্চলিক কার্যালয় ও প্রযুক্তি গ্রাম স্থাপন করা হয়েছে। এতে করে সুনামগঞ্জ এলাকায় ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের মোট চাহিদায় খাদ্যের যোগান দেবে।
তিন পার্বত্য জেলা দেশের এক দশমাংশ। এখানে তিন জেলার মধ্যে খাগড়াছড়ি জেলার আবহাওয়া প্রধানত আদ্র ও উষ্ণ প্রকৃতির। এখানে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় এবং শীতকালে তাপমাত্রা নাতিশীতোষ্ণ থাকে। ছোট বড় অনেক পাহাড় ও পর্বত, ছোট ছোট নদী ও ঝরণা রয়েছে। এখানে পাহাড়ে জুম চাষ, সমতলে ধান, আলু, সবজি, মসলা এছাড়াও প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে এখানে আধুনিক জাতের ধান বিআর৩, বিআর ২০, ২১ ও ২৬ সহ নেরিকা জাতের ধান চাষ করা হচ্ছে। পাহাড়ে চাষের উপযোগী ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা যায়,তাহলে এই এলাকায় ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এ লক্ষ্যে সরেজমিন গবেষণার উদ্দেশ্যে একটি আঞ্চলিক কার্যালয় ও প্রযুক্তি গ্রাম স্থাপন করা হচ্ছে।
দেশের মধ্যঞ্চলে সিরাজগঞ্জ জেলার আবহাওয়া সাধারণত আদ্র ও উষ্ণ থাকে। গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়, শীতকালে কিছুটা কমে আসে। বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, যা প্রায়শই বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। ধান চাষে এখানকার প্রধান অন্তরায় হলো বন্যা ও জলাবদ্ধতা। প্রকল্পটি সিরাজগঞ্জ অঞ্চলে ধান চাষে প্রতিবন্ধকতা মাথায় রেখে প্রতিকূল পরিবেশ সহনশীল ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে সিরাজগঞ্জে ধান গবেষণা কাজের তৎপরতা বাড়ানোর জন্য আরো দশ একর জমি বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দেশের দক্ষিণে নদী-নালা, খাল-বিল, জলাশয় বিল ও বাওরে ঘেরা গোপালগঞ্জ জেলার নিজস্ব একটি পরিবেশ আছে। একসময় প্রমত্তা মধুমতি নদী আর এই অঞ্চলে চাষাবাদ ছিলো খুবই কষ্টকর। সময়ের পরিবর্তনে চাষাবাদের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ প্রকল্পের অধীনে এই এলাকার কৃষকরা আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে ধান চাষে ভালো ফলন পাচ্ছেন। গবেষণা কাজের কলেবর বাড়ানোর জন্য গোপালগঞ্জেও আরো দশ একর জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পূর্বাঞ্চলে হবিগঞ্জ জেলার আবহাওয়া সাধারণত আদ্র এবং বৃষ্টিবহুল। গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বেশ গরম থাকে এবং শীতকালে হালকা শীত অনুভূত হয়। এখানকার মাটি উর্বর এবং কৃষি কাজের জন্য উপযুক্ত। হবিগঞ্জে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বেশ গরম থাকে এবং প্রায়ই বৃষ্টিপাত হয়। বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। যা প্রায়শই বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। হবিগঞ্জ জেলায় ধান চাষে কিছু সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলো বন্যা ও শিলাবৃষ্টি। এ প্রকল্প হবিগঞ্জ অঞ্চলের আবহাওয়া ও ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী সহনশীল ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে তৎপর। যা এই এলাকার কৃষি উন্নয়নে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
পাহাড়, হাওর-বাওর, নদী ও খাল, পাহাড়ি জলপ্রপাত, টিলা, উঁচু ভূমি উর্বর মাটি নেত্রকোনা জেলায় এই গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বেশ উষ্ণ এবং আর্দ্র এবং বর্ষায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। হাওর-বাওর বেষ্টিত বহুমাত্রিক সমস্যায় নিয়োজিত এলাকায় আগাম বন্যা সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক সমস্যা বিদ্যমান। এই এলাকায় প্রাকৃতিক সহনশীল ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন দেশের মোট ধানের চাহিদা মিটিয়ে অর্থনীতিতে বিশাল ভূমিকা রাখবে। এ লক্ষ্যে সরে জমিন গবেষণার জন্য আঞ্চলিক কার্যালয় ও প্রযুক্তি গ্রাম স্থাপন করা হয়েছে।
দেশের সর্বদক্ষিণে কক্সবাজার এলাকার ভূমি সাধারণত সমতল। তবে কিছু স্থানে পাহাড় ও টিলা দেখা যায়। উপকূলীয় অঞ্চলের এই জেলাটি বিভিন্ন নদী ও খাড়ি দ্বারা বেষ্টিত। এখানকার মাটি সাধারণত বেলে দো-আঁশ প্রকৃতির। এখানে ধান চাষে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান হলো-লবণাক্ততা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, পোকার আক্রমণ। প্রকল্পটি কক্সবাজার জেলার ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও আবহাওয়া বিবেচনা করে টেকসই প্রযুক্তি ও পরিবেশ সহনশীল ধানের জাত উদ্ভাবনে তৎপর। নতুন নতুন ফসলের বিস্তৃতি, এক ফসলি জমি থেকে তিন ফসলী জমিতে উন্নীত, লবণাক্ত জমিকে জয়সহ নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে প্রকল্পটি এই এলাকায় কৃষি বিপ্লব ঘটিয়েছে।
ব্রি’র এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত ব্রি’র আঞ্চলিক কার্যালয় ও স্যাটেলাইট অফিসসমূহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের মাটি, প্রকৃতি, আবহাওয়ার উপর ভিত্তি করে সহনশীল ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে প্রতিনিয়ত ব্রি’র মূল গবেষণার সাথে মিলে গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে নতুন নতুন এলাকাভিত্তিক সহনশীল ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হচ্ছে, যা দেশের কৃষি খাতকে করছে বেগবান, অর্থনীতিকে করছে শক্তিশালী।
লেখক: কৃষিবিদ ও কৃষি সাংবাদিক, ঊধ্বর্তন যোগাযোগ কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)। ফোন-০১৭১৬৫৪০৩৮০, ই-মেইল: smmomin80@gmail.com



