
নিজস্ব প্রতিবেদক: তামাকজনিত রোগ ও মৃত্যু কমাতে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ অনুমোদনকে বড় অর্জন হিসেবে দেখলেও, এটিকে কার্যকর করতে আইন হিসেবে পাস করাই এখন মুখ্য বলে মনে করছেন বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তারা জোর দিয়ে বলেছেন, অধ্যাদেশটি যেন কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ না থাকে— সে লক্ষ্যে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এটি পাস করে আইনে রূপান্তর করতে হবে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে ঢাকা আহছানিয়া মিশন আয়োজিত ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় যুগান্তকারী অর্জন—তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫ এবং পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এমন দাবি জানান পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা আরও জানান, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের দৃঢ় অবস্থানকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫। এই অবস্থান যদি পরবর্তী নির্বাচিত সরকারও অব্যাহত রাখে, তবে সংসদে আইনটি পাস হতে কোনো বাধা থাকার কথা নয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি বলেন, তামাক খাত থেকে সরকার বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পেলেও, চিকিৎসা ব্যয়, কর্মক্ষমতা হ্রাস ও অকাল মৃত্যুর কারণে এই খাতে ক্ষতির পরিমাণ ৮৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এই বিপুল ক্ষতি ও প্রাণহানি রোধের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে। তবে এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সংসদে আইন হিসেবে পাস করানো জরুরি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিসিআইসি’র সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তামাকের ক্ষতি শুধু ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলে। টোব্যাকো এটলাস ২০২৫-এর তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, বাংলাদেশে প্রায় ২ কোটি ১৩ লক্ষেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ (১৫ বছর বা বেশি) তামাক ব্যবহার করে। তার মধ্যে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মানুষ তামাক ব্যবহারজনিত রোগে মৃত্যুবরণ করে। প্রতিদিনের হিসাবে যা ৫৪৬ জনেরও বেশি। তাই তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫-কে আইনে আইনে রূপান্তর রুপান্তরের মাধ্যমে এই এই মৃত্য রোধ করা সম্ভব।
ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সহ-সভাপতি ড. এস এম খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, ঢাকা আহছানিয়া মিশনের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী শরিফুল ইসলাম।
এ সময় আহার বাংলাদেশের পরিচালক রেজাউল করিম সরকার রবিন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল (যাপ) সভাপতি বদিউজ্জামান বাদল, বাংলাদেশ সুপারমার্কেট ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি নাজমুল হাসান মাহমুদ, ঢাকা মহানগর দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি আরিফুর রহমান টিপু, বাংলাদেশ সংযুক্ত শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোকাদ্দেম হোসেন, বাংলাদেশ গ্রোসারী বিজনেস এসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসাইন খান, জাতীয় কর্মচারী ফেডারশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাবুলসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



