
মো. এমদাদুল হক (রাজশাহী) : কৃষক কার্ড হাতে থাকলে, সেবা পাবেন সাথে সাথে’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারাদেশের প্রান্তিক কৃষকদের সরকারি সেবার আওতায় আনতে কৃষক স্মার্ট কার্ড বিতরণ ও কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেনী জেলার ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় পর্যায়ের এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এর অংশ হিসেবে একই সময়ে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে স্থানীয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সঙ্গে অনলাইনে যুক্ত হন দেশের ৫৬ জেলা ও ৭৭ উপজেলার স্থানীয় কর্মকর্তা ও কৃষকেরা।
পুঠিয়া উপজেলার তারাপুর ব্লকে মোট ১২০৭ জন কৃষকের কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১২৪ জন ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষককে ২৫০০ টাকা করে কৃষি উপকরণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানের শেষে উপকারভোগী কৃষকদের হাতে প্রতীকী কৃষক স্মার্ট কার্ড তুলে দেওয়া হয়।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, পুঠিয়া উপজেলার তিনটি ব্লকে মোট কৃষক কার্ডের তথ্যের মধ্যে তারাপুর ব্লকে ১,২০৭ জন, কান্দ্রা ব্লকে ১,২২৯ জন এবং পুঠিয়া ব্লকে ৩০৮ জন কৃষক রয়েছেন। ব্যাংক হিসাবের ক্ষেত্রে তারাপুর ব্লকে ১,২০৭টি এবং কান্দ্রা ব্লকে ৮০০টি হিসাব প্রস্তুত করা হয়েছে।
কৃষি অফিস জানায়, অনুমোদিত সব কৃষকই কৃষক কার্ড পাবেন। তবে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরাই বার্ষিক ২,৫০০ টাকা কৃষি উপকরণ সহায়তার জন্য নির্বাচিত হবেন। জাতীয় পর্যায়ে এ উদ্ভোধনী কার্যক্রমে প্রায় ১ লাখ কৃষককে একযোগে ২,৫০০ টাকা করে কৃষি উপকরণ সহায়তা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আজিজুর রহমান, রাজশাহীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শহিদুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন, রাজশাহী অঞ্চলের উপপরিচালক মোছা. সাবিনা বেগম, পার্টনার প্রকল্পের সিনিয়র মনিটরিং অফিসার মো. আব্দুল লতিফসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকার, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা, উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং উপকারভোগী কৃষকেরা।
কৃষক স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের সরকারি কৃষি সহায়তা ও বিভিন্ন সেবার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।



