
নিজস্ব প্রতিবেদক : বীজের ট্যাগ জালিয়াতি কিংবা কোনো ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বীজের গুণগত সনদ প্রদান এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের বীজ রপ্তানির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রতিষ্ঠানটিতে একটি অ্যাক্রেডিটেড ল্যাবরেটরি স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীর খামারবাড়িস্থ আ.কা.মু. গিয়াস উদ্দীন মিলকী অডিটোরিয়ামে আঞ্চলিক বীজ প্রত্যয়ন অফিস আয়োজিত ‘মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ এবং বাজার মনিটরিং’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির পরিচালক ড. মো. জাকির হোসেন।
তিনি বলেন, বীজের মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা গেলে দেশের বাইরে বীজ রপ্তানির ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হবে। অ্যাক্রেডিটেড ল্যাবরেটরির সনদ প্রদান করা সম্ভব হলে বিশ্বের অনেক দেশেই বাংলাদেশের বীজ রপ্তানি করা যাবে। এ লক্ষ্যেই বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সিতে একটি অ্যাক্রেডিটেড ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
ড. জাকির হোসেন বীজের ট্যাগ নিয়ে কোনো ধরনের অসাধুতা বরদাশত করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, বীজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক অংশগ্রহণের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে উন্নতমানের বীজ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হলে ভালো ফলন অর্জনের পাশাপাশি কৃষির উৎপাদনশীলতাও বাড়বে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ মো. আহসানুল বাসার, আঞ্চলিক বীজ প্রত্যয়ন অফিসার (অব.) এবং কৃষিবিদ মো. নুরুজ্জামান, অতিরিক্ত পরিচালক (মাঠ প্রশাসন, পরিকল্পনা ও মনিটরিং), বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি, গাজীপুর। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষিবিদ মো. গোলাম হাসান মজুমদার, ভারপ্রাপ্ত আঞ্চলিক বীজ প্রত্যয়ন অফিসার, বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি, আঞ্চলিক কার্যালয়, ঢাকা।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় উচ্চফলনশীল ও সহনশীল জাতের বীজ উৎপাদনের পাশাপাশি বীজ সংরক্ষণ ও বিতরণব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে বাজারে নকল ও নিম্নমানের বীজের বিস্তার রোধে নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি।
বক্তারা কৃষকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান ও নিবন্ধিত ডিলারের কাছ থেকে বীজ ক্রয় করলে প্রতারণার ঝুঁকি কমবে এবং কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া সম্ভব হবে। তারা কৃষির টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মানসম্পন্ন বীজ ব্যবস্থাপনার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
সেমিনারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট, কৃষি তথ্য সার্ভিসসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, বীজ ডিলার, কৃষক প্রতিনিধি এবং বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির বিভিন্ন জেলার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



