
সিকৃবি সংবাদদাতা: সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. আলিমুল ইসলাম বলেছেন, দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং কৃষিজমির সংকোচনের কারণে আধুনিক ও টেকসই কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এখন সময়ের দাবি। এ প্রেক্ষাপটে সিলেট অঞ্চলে পেঁয়াজ ও সরিষা চাষ সম্প্রসারণ এবং সিলিকন প্রযুক্তির মাধ্যমে আগাম পরিপক্বতা ও সংরক্ষণক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পেঁয়াজ বাংলাদেশের একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলা জাতীয় ফসল। কিন্তু দেশে উৎপাদনের তুলনায় চাহিদা বেশি হওয়ায় প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। সিলিকন ব্যবহারের মাধ্যমে পেঁয়াজ ও সরিষা চাষ সম্প্রসারণ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে । এটি শুধু কৃষি উৎপাদনই বৃদ্ধি করবে না, বরং কৃষকের আয় বৃদ্ধি ,পতিত জমির সঠিক ব্যবহার এবং আমদানি ব্যয় হ্রাসের মাধ্যমেও দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।
শনিবার (৯ মে) সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের কনফারেন্স রুমে বিএএস- ইউএসডিএ এর অর্থায়নে পরিচালিত “সিলিকন মিডিয়েটেড স্কেল-আপ অফ অনিয়ন অ্যান্ড মাস্টার্ড ফার্মিং ইন সিলেট রিজিয়ন অ্যান্ড এনহ্যান্সমেন্ট অফ আর্লি ম্যাচিউরিটি উইথ পোস্টহারভেস্ট ডিলে অফ বাল্ব ফর ফিউচার ফুড সিকিউরিটি অফ বাংলাদেশ ”শীর্ষক গবেষণা প্রকল্পের সমাপনি কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কর্মশালায় গবেষণা কার্যক্রম ও ফলাফল সম্পর্কিত তথ্যাদি উপস্থাপন করেন প্রকল্পের প্রধান গবেষক কৃষি রসায়ন বিভাগের প্রফেসর ড. মো. কামরুল হাসান এবং সহ-প্রধান গবেষক মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. মো. শাহাদৎ হোসেন ।
সাউরেসের পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাহবুব ইকবালের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. শহীদুল ইসলাম ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. মোশাররফ হোসেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালক, দপ্তর প্রধান,বিভাগীয় চেয়ারম্যান,বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, স্থানীয় কৃষকসহ কৃষি রসায়ন বিভাগের এমএস শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, সিলেট অঞ্চলের ফসলি জমি অম্লীয় হওয়ায় অন্যান্য ফসলের ন্যায় পেঁয়াজ ও সরিষার আবাদও কম হয়ে থাকে। পেঁয়াজ ও সরিষা ফসলে সিলিকন ব্যবহারের ফলে পেঁয়াজ ও সরিষা গাছের বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি পেঁয়াজের বাল্বের সংরক্ষণক্ষমতা বৃদ্ধিসহ পেঁয়াজ ও সরিষার ফলন বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে।



