
রংপুর সংবাদদাতা :রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় উৎপাদিত ‘সানশাইন’ জাতের আলু রপ্তানির মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। বাংলাদেশ উত্তম কৃষি চর্চা (GAP) মানদণ্ড অনুসরণ করে উৎপাদিত এই আলু মালয়েশিয়া ও দুবাইয়ের বাজারে যাচ্ছে, যা স্থানীয় কৃষকদের জন্য নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের খেজমতপুর ব্লকের অংশীজন সংগঠনের সদস্য মো. বেলাল প্রধানের খামার থেকে ২৬ মেট্রিক টন ‘সানশাইন’ আলু মালয়েশিয়ায় রপ্তানি করা হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও হর্টেক্স ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় থিংকস টু সাপ্লাই এবং স্মার্ট সাপ্লাই বাংলাদেশ লিমিটেড যৌথভাবে এ রপ্তানি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে আরও আলু রপ্তানি করা হবে।
রপ্তানি কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি অফিসার সুমন আহমেদ বলেন, “GAP মানদণ্ডভিত্তিক আলু উৎপাদন পীরগঞ্জের কৃষিকে রপ্তানিমুখী ধারায় নিয়ে যাচ্ছে। মানসম্মত উৎপাদন, ট্রেসেবিলিটি ও বাজারসংযোগ নিশ্চিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ সহজ হচ্ছে। এ ধারা বজায় থাকলে কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং কৃষি রপ্তানি খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।” এ সময় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ফজলুল বারী এবং খেজমতপুর ভ্যালু চেইন পটেটো মডেল ফার্মের সভাপতি মো. বেলাল প্রধানসহ স্থানীয় কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে পার্টনার প্রোগ্রামের আওতায় পীরগঞ্জে ১৬টি পার্টনার GAP ফিল্ড স্কুল ও একটি মডেল ফার্মের মাধ্যমে প্রায় ১৬৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫ হেক্টর জমিতে ‘সানশাইন’ জাতের আলু আবাদ করা হয়েছে। এসব স্কুল ও মডেল ফার্মের মাধ্যমে ৫,২৫০ মেট্রিক টন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার আরও জানান, পীরগঞ্জ থেকে প্রতিবছর নেপাল, ভুটান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে আলু রপ্তানি হয়ে থাকে। চলতি বছরে হর্টেক্স ফাউন্ডেশনের সহায়তায় মালয়েশিয়া ও দুবাইয়ে রপ্তানি কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হয়েছে।
স্মার্ট সাপ্লাই বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালক মো. মিল্লাত হাসান বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী ‘সানশাইন’ আলু রপ্তানি অব্যাহত রয়েছে। ভবিষ্যতে অন্যান্য জাতের আলুও রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দেশের বাজারে ঢাকার বিভিন্ন সুপারশপেও আলু সরবরাহ করা হচ্ছে।”
রংপুর অঞ্চলের পার্টনার প্রোগ্রামের সিনিয়র মনিটরিং অফিসার অশোক কুমার রায় জানান, চলতি অর্থবছরে এ অঞ্চলের পাঁচটি জেলায় প্রায় ২,৪৬০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে, যেখানে প্রায় ৭৫ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, উত্তম কৃষি চর্চা (GAP) অনুসরণ করে উৎপাদিত আলুর আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করছে। এর ফলে কৃষকের আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের কৃষিপণ্য রপ্তানি খাত আরও শক্তিশালী হবে।



