
রংপুর সংবাদদাতা : রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা থেকে মালয়েশিয়া ও দুবাইয়ে ‘সানশাইন’ জাতের আলু রপ্তানি শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ উত্তম কৃষি চর্চা (GAP) মানদণ্ড অনুসরণ করে উৎপাদিত এ আলু থিংকস টু সাপ্লাই ও জাফরিন এগ্রো রিসোর্স লিমিটেডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হচ্ছে।
সম্প্রতি উপজেলার পায়রাবন্দর ইউনিয়নের বলদীপুকুর ব্লকের পার্টনার (GAP) ফিল্ড স্কুলের সদস্য মো. মিল্লাত হাসান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও হর্টেক্স ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় রপ্তানির জন্য আলু সরবরাহ করেন। রপ্তানির প্রথম দিনেই ৫৬ মেট্রিক টন আলু মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে আরও আলু রপ্তানি করা হবে।
রপ্তানি কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার মো. লোকমান হেকিম নিলয়, অতিরিক্ত কৃষি অফিসার মো. সালাউদ্দিন, হর্টেক্স ফাউন্ডেশনের ভ্যালু চেইন প্রমোশনাল অফিসার মো. আব্দুল মান্নান এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মোসফিকুর রহমান, মো. আসাদুজ্জামান সরকার ও মো. শরিফুল ইসলাম।
উপজেলা কৃষি অফিসার জানান, চলতি মৌসুমে পার্টনার প্রোগ্রামের আওতায় মিঠাপুকুর উপজেলায় ২০টি পার্টনার (GAP) ফিল্ড স্কুলের মাধ্যমে ১৯৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে ‘সানশাইন’ জাতের আলু আবাদ করা হয়েছে। মোট উৎপাদন প্রায় ৬,২৫০ মেট্রিক টন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবছর মিঠাপুকুর থেকে নেপাল, ভুটান ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে আলু রপ্তানি হয়ে থাকে। এ বছর হর্টেক্স ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় নতুন করে মালয়েশিয়া ও দুবাইয়ে রপ্তানির মাধ্যমে এ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হলো।
সাপ্লায়ার ও বলদীপুকুর অংশীজন সংগঠনের সদস্য মো. মিল্লাত হাসান বলেন, প্রাথমিকভাবে থিংকস টু সাপ্লাই এর মাধ্যমে সানশাইন জাতের আলু রপ্তানি শুরু করেছি। ভবিষ্যতে চাহিদা অনুযায়ী অন্যান্য জাতের আলুও রপ্তানি করা হবে।” রপ্তানির পাশাপাশি হর্টেক্স ফাউন্ডেশনের সহায়তায় ঢাকাস্থ কৃষকের বাজার, ইউনিমার্ট ও আগোরা ও ডেইলি শপিংকে আলু দিচ্ছি।
রংপুর অঞ্চলের পার্টনার প্রোগ্রামের সিনিয়র মনিটরিং অফিসার অশোক কুমার রায় জানান, চলতি অর্থবছরে এ অঞ্চলের পাঁচটি জেলায় ২,৪৬০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে, যেখান থেকে প্রায় ৭৫ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বাংলাদেশ উত্তম কৃষি চর্চা (GAP) অনুসরণে উৎপাদিত আলু আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানিতে সহযোগিতা করায় সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উত্তম কৃষি চর্চা (GAP) অনুসরণ করে উৎপাদিত আলুর আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের ফলে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে কৃষকের আয় বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের কৃষিপণ্য রপ্তানি খাত আরও শক্তিশালী হবে।



