
মো. জুলফিকার আলী (সিলেট): কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিলেট অঞ্চলের উদ্যোগে সিলেট অঞ্চলে কর্মরত বিসিএস (কৃষি) ক্যাডার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মহাপরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই), খামারবাড়ি, ঢাকা-এর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সিলেট নগরীর হোটেল মেট্রা ইন্টারন্যাশনালের সম্মেলন কক্ষে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. মোশাররফ হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুর রহিম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহাপরিচালক বলেন, “সিলেট অঞ্চলের প্রতিটি জমিকে তার উপযোগিতা অনুযায়ী চাষাবাদের আওতায় আনতে হবে। জমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে আবাদ বাড়ালে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে। কৃষি ও কৃষকের সাফল্যই দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের ভিত্তি।”
তিনি আরও বলেন, নির্দিষ্ট একটি ফসলের ওপর নির্ভর না করে মিশ্র বাগান সৃষ্টি, ফল ও সবজি একসঙ্গে চাষ এবং পারিবারিক পুষ্টি বাগান গড়ে তোলার মাধ্যমে কৃষকদের পাশাপাশি কৃষাণীরাও স্বাবলম্বী হচ্ছেন। সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়নে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত বিসিএস (কৃষি) কর্মকর্তাগণ ছাড়াও সিডিএ, এআইএস, হর্টিকালচার সেন্টার এবং কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (এটিআই)-এ কর্মরত বিসিএস (কৃষি) কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মহাপরিচালক অতিরিক্ত পরিচালকের কার্যালয় ও উপপরিচালকের কার্যালয়ের প্রশিক্ষণ হলরুমে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প (১ম সংশোধিত)-এর আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সিলেট অঞ্চলে আবাদযোগ্য উচ্চমূল্যের ফসল উৎপাদন ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন বিষয়ক দুই দিনব্যাপী উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
মতবিনিময় সভা শেষে মহাপরিচালক আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প (১ম সংশোধিত)-এর আওতায় সিলেট জেলার জৈন্তাপুর উপজেলার উমনপুর গ্রাম এবং গোয়াইনঘাট উপজেলায় প্রকল্পভুক্ত উপকারভোগী কৃষক ও কৃষাণীদের সঙ্গে উন্মুক্ত মতবিনিময় করেন।
কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, “অনেক কৃষক ফসলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার ব্যবহার করেন, যা মাটির স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। পেঁয়াজ, সরিষা, গমসহ প্রতিটি ফসলে সঠিক মাত্রায় সার ব্যবহার করতে হবে এবং মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জৈব সারের ব্যবহার বাড়াতে হবে।”
তিনি আরও আশ্বস্ত করে বলেন, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও আধুনিক ও টেকসই কৃষি উন্নয়নে নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।



