
বাকৃবি প্রতিনিধি : লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) আক্রান্ত গবাদিপশুর চিকিৎসা ও নিয়ন্ত্রণ কৌশল বিষয়ে প্রণীত পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা নির্দেশনা বই প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) প্যাথলজি বিভাগ। এলডিডিপির আর্থিক সহায়তায় এবং “ইনভেস্টিগেশন অব লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) অ্যাফেক্টেড হার্ডস অ্যান্ড ফরমুলেশনস কন্ট্রোল স্ট্র্যাটেজিস” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এই চিকিৎসা নির্দেশনা বই হস্তান্তর করা হয়।
মঙ্গলবার রাজধানীর খামারবাড়িতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে “লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) ট্রিটমেন্ট গাইডলাইন হ্যান্ডওভার সিরেমনি” শীর্ষক অনুষ্ঠানে এটি হস্তান্তর করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের (এলডিডিপি) পরিচালক ড. মো. মোস্তফা কামাল। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্পের প্রধান গবেষক ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. রোখসানা পারভীন। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজি বিভাগের প্রফেসর ড. মো. মকবুল হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বয়জার রহমান, পরিচালক (সম্প্রসারণ) ডা. বেগম শামসুন্নাহার আহম্মদ, পরিচালক (উৎপাদন) ড. এ বি এম খালেকুজ্জামান এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (এল আর) ও পিএইচডি শিক্ষার্থী ডা. ইসরাত জেরিন।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে অধ্যাপক ড. রোখসানা পারভীন প্রকল্পের লক্ষ্য, অর্জন এবং “ইনভেস্টিগেশন অব লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) অ্যাফেক্টেড হার্ডস অ্যান্ড ফরমুলেশনস কন্ট্রোল স্ট্র্যাটেজিস” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় প্রণীত চিকিৎসা নির্দেশনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, এলএসডি একটি ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় প্রতিরোধের পাশাপাশি আক্রান্ত পশুর কার্যকর চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পের মাধ্যমে প্রণীত নির্দেশনাটি মাঠপর্যায়ে প্রাণি চিকিৎসকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের পর প্রধান অতিথির সভাপতিত্বে উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও প্রাণি চিকিৎসকরা তাদের প্রশ্ন ও মতামত তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান বলেন, দেশে ছয় বছরের বেশি সময় ধরে এলএসডি রোগটি বিদ্যমান এবং সময়ের সঙ্গে এর ধরণের পরিবর্তনের ফলে মৃত্যুহার বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, এলআরআই টিকা উৎপাদনের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধে কাজ করছে। তবে চিকিৎসা নির্দেশনার প্রয়োজনীয়তা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে মাঠ পর্যায়ে LSD রোগের চিকিৎসা করার জন্য পরিপূর্ণ কোনো ধরনের নির্দেশনা ছিলোনা। আমাদের পরিপূর্ণ চিকিৎসা নির্দেশনা দিয়ে মাঠ পর্যায়ে সকল ভেটেরিনারি চিকিৎসকগণ সকলেই একইভাবে চিকিৎসা করতে সক্ষম হবে এবং রোগের শুরুতে চিকিৎসা শুরু করলে চামড়ার গুনগত মান রক্ষা পাবে।



