
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের ডেইরি খামারিদের দীর্ঘদিনের বাস্তব সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে দুটি নতুন পণ্য বাজারে এনেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠান স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি’র এগ্রোভেট ডিভিশন। নবজাতক বাছুরের সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং দুধাল গাভীর প্রসবোত্তর স্বাস্থ্য জটিলতা মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠানটি বাজারে এনেছে BabyLac™ ও Recoma নামে পাউডার জাতীয় দুটি আধুনিক ভেটেরিনারি পণ্য।
এ উপলক্ষে গত রবিবার (২৫ জানুয়ারি) স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি’র নিজস্ব কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পণ্য দুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্কয়ার এগ্রোভেট অ্যান্ড ক্রপ কেয়ার ডিভিশনের জেনারেল ম্যানেজার জয়ন্ত দত্ত গুপ্তা, স্কয়ার এগ্রোভেট ডিভিশনের সিনিয়র ম্যানেজার মো. আরিফুজ্জামান ও রুবাইয়াত নুরুল হাসান, গ্রুপ কো-অর্ডিনেটর সৈয়দ রিয়াদ জাহান এবং পণ্য দুটির প্রোডাক্ট এক্সিকিউটিভ ডা. মো. আমিনুল ইসলাম ও ডা. আলমগীর মাহফুজ আবির।
অনুষ্ঠানে BabyLac সম্পর্কে স্কয়ার এগ্রোভেট ডিভিশনের প্রোডাক্ট এক্সিকিউটিভ ডা. মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, জন্মের পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা ও দিন – যাকে ‘গোল্ডেন আওয়ার’ বলা হয় -এই সময়ের সঠিক পুষ্টি একটি বাছুরের সারাজীবনের স্বাস্থ্য, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ দুধ উৎপাদনের সক্ষমতা নির্ধারণ করে।এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ের কথা বিবেচনায় রেখে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন মিল্ক রিপ্লেসার হিসেবে BabyLac™ Powder (More than a Milk Replacer) বাজারে এনেছে স্কয়ার এগ্রোভেট ডিভিশন।
তিনি বলেন, আধুনিক Bewital-Vitality System (BVS) প্রযুক্তিতে প্রস্তুত BabyLac™ পুষ্টি উপাদানগুলোর সর্বোচ্চ হজম ও শোষণ নিশ্চিত করে। এতে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন ও ফ্যাটের সুষম অনুপাত, প্রয়োজনীয় ভিটামিন A, D₃, E ও C, মিনারেলস এবং শক্তিশালী প্রোবায়োটিক, যা অন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং ডায়রিয়া ও সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনে।
“BabyLac™-এ আয়রনের পরিমাণ সাধারণ দুধের তুলনায় বেশি, যা নবজাতক বাছুরের রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সহায়ক এবং দৈনিক ওজন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গবেষণায় দেখা গেছে, সঠিক ব্যবহারে একটি বাছুর দৈনিক গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম পর্যন্ত ওজন বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়। পাশাপাশি এটি নবজাতক প্রাণীর রুমেন ডেভেলপমেন্ট দ্রুততর করে, ফলে দ্রুত কঠিন খাদ্যে অভ্যস্ত হওয়া এবং আগাম উইনিং সম্ভব হয়। সংক্রামক রোগে আক্রান্ত গাভীর দুধের নিরাপদ বিকল্প হিসেবেও BabyLac™ কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়” – যোগ করেন ডা. আমিনুল।
অন্যদিকে, রিকোমা (Recoma 100 gm Powder) সম্পর্কে স্কয়ার এগ্রোভেট ডিভিশনের প্রোডাক্ট এক্সিকিউটিভ ডা. আলমগীর মাহফুজ আবির জানান, ম্যাস্টাইটিস, মেট্রাইটিস এবং রিটেনশন অব প্লাসেন্টা—এই তিনটি সমস্যা দেশের ডেইরি খামারিদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এসব সমস্যার কারণে গাভীর দুধ উৎপাদন কমে যায়, প্রজনন ব্যাহত হয় এবং খামারিদের উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। এই তিনটি সমস্যার কার্যকর সমাধানে দেশে প্রথমবারের মতো Recoma Powder বাজারে আনা হয়েছে।
স্কয়ার এগ্রোভেট ডিভিশনের সিনিয়র ম্যানেজার মো. আরিফুজ্জামান বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের খামারিদের গাভীর ওপর পণ্য দুটি ব্যবহারের মাধ্যমে ট্রায়াল পরিচালনা করা হয়েছে এবং সেখানে অত্যন্ত ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, BabyLac™ ও Recoma ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের ডেইরি খামারিরা উৎপাদন বৃদ্ধি, রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিকভাবে আরও লাভবান হবেন।
তিনি আরো বলেন, নিয়মিত ও সঠিকভাবে Recoma ব্যবহার করলে গাভী দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে, দুধ উৎপাদন স্বাভাবিক থাকে এবং খামারের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়। ফলে খামারির সময় ও খরচ উভয়ই সাশ্রয় হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নবজাতক বাছুরের সুস্থ বৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ উৎপাদন ক্ষমতা নিশ্চিত করাই একটি টেকসই ডেইরি খামার ব্যবস্থার মূল ভিত্তি। খামারিদের বাস্তব চাহিদা ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়েই এই দুটি পণ্য বাজারে আনা হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, BabyLac ও Recoma দেশের ডেইরি শিল্পে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে এবং খামারিদের আস্থা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



