
মো. এমদাদুল হক (রাজশাহী) : নওগাঁর পোরশা উপজেলার সারাইগাছীর পাশে তাইতোড় গ্রামে ২৫ বিঘা জমিতে গড়ে উঠেছে বড় পরিসরের একটি আঙুর বাগান। স্বপ্নলতা সয়েল চার্জার টেকনোলজি লিমিটেড নামের এ বাগানের উদ্যোক্তা ও মালিক প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ। আধুনিক মাচা ও সেচ ব্যবস্থাপনায় গড়ে ওঠা বাগানটি বরেন্দ্র অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন আগ্রহ তৈরি করেছে।
বাগানটিতে লোহার খুঁটি ও এসএস তারের মাচায় আঙুরগাছ চাষ করা হচ্ছে। খরাপ্রবণ পোরশা এলাকায় সেচের সুবিধা নিশ্চিত করতে মাটির নিচ দিয়ে পানির লাইন স্থাপন করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী গাছে সেচ দেওয়ার পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
বাগানের ম্যানেজার আলতাফ হোসেন জানান, এখানে প্রায় ২০-২২ জাতের আঙুর চাষ করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বাইকোনুর, ক্রিমসন সিডলেস, মেনিন্ডি সিডলেস, ব্ল্যাক ম্যাজিক, ব্ল্যাক জাম্বু, অ্যাপোলো, সিলভা, সুলতানা অনুসরা ও ভেলেজ ডিরসনসহ বিভিন্ন জাত। এসব জাতের চারা ভারতের মহারাষ্ট্র ও চুয়াডাঙ্গা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।
তিনি জানান, বাইকোনুর মিষ্টি ও রসালো একটি রাশিয়ান জাত। ক্রিমসন সিডলেস ও মেনিন্ডি সিডলেস বীজবিহীন ও মিষ্টি। ব্ল্যাক ম্যাজিক ও ব্ল্যাক জাম্বু গাঢ় কালো রঙের আকর্ষণীয় জাত।
আঙুর চাষে শুরুতে বিনিয়োগ তুলনামূলক বেশি হলেও সঠিক ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিন বাগান থেকে ফলন পাওয়া সম্ভব। এ জন্য তিনি মাচা তৈরি, জাত নির্বাচন, সেচ ও ছাঁটাইকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন।
বাগানে আঙুরগাছের অপ্রয়োজনীয় ডালপালা নিয়মিত ছাঁটাই করা হয়। রোগ ও পোকার আক্রমণ দেখা দিলে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। জাতভেদে একটি গাছ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ কেজি পর্যন্ত আঙুর পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চলতি সময়ে বাগানে উৎপাদিত আঙুর বাজারে বিক্রি করা হয়নি। উৎপাদিত ফল আত্মীয়স্বজন, পরিদর্শক ও অন্যদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে উৎপাদন বাড়লে বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি উন্নত জাতের আঙুরের চারা উৎপাদন ও বিক্রির পরিকল্পনাও রয়েছে।
উদ্যোক্তার আশা, দেশের উত্তরাঞ্চলের বরেন্দ্রভূমিতে উপযোগী জাত ও আধুনিক ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করে বাণিজ্যিক আঙুর চাষের একটি কার্যকর মডেল তৈরি করা সম্ভব। বর্তমানে বাগানটিতে ১০ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত শ্রমিক নেওয়া হয়।
পোরশার এ উদ্যোগটি শুধু একটি আঙুর বাগান নয়; বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষিতে প্রচলিত ফসলের বাইরে নতুন ধরনের বাণিজ্যিক চাষের সম্ভাবনাও তুলে ধরছে।



