
নিজস্ব প্রতিবেদক: কৃষিখাতের গুরুত্ব বিশেষভাবে তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, “কৃষিখাতকে শক্তিশালী না করে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।” তিনি বলেন, এই বাস্তবতা উপলব্ধি করেই সরকার কৃষিকে উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে সমন্বিত ও লক্ষ্যভিত্তিক নীতি গ্রহণ করছে।
আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, দেশের অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষা, গ্রামীণ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কৃষিখাতকে আরও কার্যকর ও উৎপাদনশীল করে তোলার বিকল্প নেই।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে কৃষিখাত মোট জাতীয় মূল্য সংযোজনের মাত্র ১১.৬ শতাংশ যোগ করলেও মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৪১ শতাংশ এই খাতে নিয়োজিত।” তিনি উল্লেখ করেন, এই বৈষম্য কৃষিখাতে শ্রমের নিম্ন উৎপাদনশীলতার প্রতিফলন এবং এটি শ্রমবাজারের কাঠামোগত দুর্বলতার দিকেই ইঙ্গিত করে।
তিনি আরও বলেন, “শিল্প ও সেবা খাতে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি না হওয়ায় তরুণরা বাধ্য হয়ে কৃষিখাতেই বেশি নিয়োজিত হচ্ছে,” যার ফলে “ছদ্ম-বেকারত্ব তীব্রতর হচ্ছে এবং শ্রমশক্তির উৎপাদনশীলতা ও আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা সীমিত হয়ে পড়ছে।”
কৃষি প্রবৃদ্ধির নিম্নমুখী ধারা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এক সময় কৃষিতে প্রবৃদ্ধি ছিল ৫.৭৭ শতাংশ, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কমে ৩.৩০ শতাংশে নেমে এসেছে।” এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে তা খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীণ অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
কৃষকদের সহায়তায় সরকারের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী জানান, “প্রকৃত কৃষক, মৎস্যজীবী ও প্রাণিসম্পদ খামারিদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ প্রদান কার্যক্রম ইতোমধ্যে পাইলটিং করা হয়েছে।” এছাড়া “১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে,” যা কৃষকদের আর্থিক স্বস্তি দিতে সহায়ক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বক্তব্যে তিনি কৃষিকে শুধু একটি উৎপাদন খাত নয়, বরং “গ্রামীণ অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার মূল চালিকাশক্তি” হিসেবে উল্লেখ করেন এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও বাজার ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
সবশেষে অর্থমন্ত্রী পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের ধারাকে টেকসই করতে হলে কৃষিখাতকে শক্তিশালী করার কোনো বিকল্প নেই।



