
নিজস্ব প্রতিবেদক : খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের কৃষিপণ্য আমদানিতে আগ্রহ দেখিয়েছে সিঙ্গাপুর। দেশটি মনে করছে, কৃষিপণ্যের একটি সম্ভাবনাময় উৎস হিসেবে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, যা দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতেও সহায়ক হবে।
আজ সোমবার (১৯ মে) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ আগ্রহের কথা জানান সিঙ্গাপুরের অনাবাসিক হাইকমিশনার ডেরেক লো। বৈঠকে তিনি বলেন, সিঙ্গাপুর বর্তমানে তাজা কৃষিপণ্য ও খাদ্যপণ্য আমদানির জন্য অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশের ওপর নির্ভরশীল। তবে ভৌগোলিক অবস্থান ও কৃষি উৎপাদন সক্ষমতার কারণে বাংলাদেশও দেশটির জন্য একটি সম্ভাবনাময় অংশীদার হয়ে উঠতে পারে।
ডেরেক লো বলেন, কৃষিপণ্য আমদানির মাধ্যমে শুধু খাদ্য নিরাপত্তাই নয়, বরং বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যকার বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর ক্ষেত্রেও ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জন সম্ভব।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সহযোগিতা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ সিঙ্গাপুরের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদারে আগ্রহী। তিনি বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, উন্নত অবকাঠামো, দক্ষ জনশক্তি এবং রপ্তানিমুখী শিল্প ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশ এখন বিদেশি বিনিয়োগের জন্য সম্ভাবনাময় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, লজিস্টিকস, বন্দর অবকাঠামো ও পরিবেশবান্ধব শিল্পে দুই দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
এদিকে সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনার বে-টার্মিনাল প্রকল্পকে বাংলাদেশের বাণিজ্য অবকাঠামোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, প্রায় ৮০০ মিলিয়ন থেকে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগ দেশের বন্দর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



