
নিজস্ব প্রতিবেদক : সর্বজনীন পেনশন স্কিমের অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে উচ্চপর্যায়ের এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীতে অর্থমন্ত্রীর সভাকক্ষে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সভায় জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মোঃ সুরাতুজ্জামান সর্বজনীন পেনশন স্কিমের বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা তুলে ধরেন। এতে জানানো হয়, চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা—এই চারটি স্কিমে মোট ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৫৪৫ জন নাগরিক নিবন্ধিত হয়েছেন। পেনশন তহবিলে জমা হয়েছে প্রায় ২৫৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং মুনাফাসহ বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
সভায় অর্থ সচিব ড. মোঃ খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ অর্থ বিভাগ ও জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উপস্থাপনায় দেশের জনমিতিক পরিবর্তনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। জানানো হয়, বাংলাদেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত। পাশাপাশি দেশের বয়স্ক জনগোষ্ঠীর নির্ভরশীলতার হার ২০২৩ সালের ৯ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০৫০ সালে ২৪ শতাংশ এবং ২০৭৫ সালে ৪৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এ বাস্তবতায় সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় অর্থমন্ত্রী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের প্রতিটি থেকে অন্তত একজন সদস্যকে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে স্কিমকে আরও জনবান্ধব ও আকর্ষণীয় করতে শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালু, নমিনিদের জন্য আজীবন পেনশন সুবিধা বিবেচনা এবং প্রগতি স্কিমে আউটসোর্সিং কর্মীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক মত দেন তিনি।
সভায় আরও জানানো হয়, Asian Development Bank (এডিবি) সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ প্রকল্পে সহজ শর্তে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম চলছে। বর্তমানে ৪৫টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিকাশ, নগদ এবং টেলিটকের মাধ্যমে পেনশন চাঁদা গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলেও সভায় জানানো হয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬ অনুযায়ী বেসরকারি খাতের কর্মীদের বার্ধক্যকালীন আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেনশন ফান্ড গঠন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার। এ লক্ষ্যে সর্বজনীন পেনশন স্কিমে জনগণের আস্থা বৃদ্ধি, প্রচার কার্যক্রম জোরদার, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দক্ষ ও পেশাদার জনবল নিয়োগের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় সার্বিক আলোচনা শেষে সর্বজনীন পেনশন স্কিমকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সময় জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমের প্রশংসা করে সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান অর্থমন্ত্রী এবং দেশের সব নাগরিকের কাছে পেনশন সুবিধা পৌঁছে দিতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।



